বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে সংসদে দুই বিল পাশ
বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে সংসদে দুই বিল পাশ

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন (সংশোধন) ২০২৬ এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাশ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিনে বিল দুটি উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিরোধী দলের আপত্তি

বিল দুটি উত্থাপনের সময় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। তবে কণ্ঠভোটে বিল দুটি পাশ হয়ে যায়। বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও সরকার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিল দুটি অনুমোদিত হয়।

বিএসইসি আইনের সংশোধনী

বিদ্যমান আইনে কোনো ব্যক্তি ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ করলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান বা কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার অযোগ্য হিসেবে গণ্য হন বা পদে বহাল থাকতে পারেন না। পাশ হওয়া বিলে এই বিধান বিলুপ্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর ফলে বয়সসীমা বাতিল হয়ে যাবে, এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন পদে থাকতে পারবেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইডিআরএ আইনের সংশোধনী

অন্যদিকে, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আইনে বলা ছিল, ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হলে কোনো ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে থাকতে পারবেন না। সংশোধিত বিলেও এই বয়সসীমা সংক্রান্ত বিধান বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। ফলে আইডিআরএ-এর শীর্ষ পদেও বয়সসীমা আর প্রযোজ্য হবে না।

সংশোধনীর যুক্তি

বিল দুইটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিজ্ঞ, দক্ষ ও জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুযোগ দিতে আইনগুলো সময়োপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজার ও বীমা খাতে দক্ষ নেতৃত্বের প্রয়োজন, এবং বয়সসীমা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণ হবে বলে সরকার মনে করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বলেন, এই সংশোধনী আধুনিক ও গতিশীল বাজার অর্থনীতির চাহিদা পূরণ করবে। তিনি আরও বলেন, বয়সসীমা বাতিলের ফলে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন, যা খাতের উন্নয়নে সহায়ক হবে।

বিরোধী দলের সদস্যরা বিল দুটির বিরোধিতা করে বলেন, বয়সসীমা বাতিল করলে নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ব্যক্তিদের সুযোগ সীমিত হবে। তবে সরকার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তাদের আপত্তি উপেক্ষা করে বিল পাশ করানো হয়।