চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতায় দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতায় দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

চট্টগ্রাম নগরে গতকাল মঙ্গলবার অঝোর বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বেশ কয়েকটি সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। এই জলাবদ্ধতার কারণে কষ্টের শিকার হওয়া চট্টগ্রাম মহানগরের বাসিন্দাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যা থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে সরকার।

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন। তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। এর আগে চট্টগ্রাম–১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘অনেক বড় ওয়াটার লগ হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে একটু সময় লাগবে। এই কষ্টের জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে চট্টগ্রাম শহরে বসবাসকারী সব নাগরিকের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা চেষ্টা করছি, যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যা থেকে মানুষকে যেন বের করে নিয়ে আসা যায়।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, গতকাল তিনিও সংবাদমাধ্যমে দেখেছেন চট্টগ্রাম শহরের একটি বড় অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে এবং মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এই সমস্যা শুধু চট্টগ্রামে নয়, বলা যায় সারা দেশে ছড়িয়ে আছে। ঢাকা শহরেও অনেক জায়গায় বৃষ্টিতে পানি জমে যাচ্ছে। এটি অনেক দিনের সমস্যা।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ

সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সমগ্র বাংলাদেশে খাল খননের মাধ্যমে রিজার্ভার তৈরি করেছিলেন, একই সঙ্গে বন্যা বা জলাবদ্ধতাও দূর করেছিলেন। একই কাজে আবার ফিরে যেতে হবে। বর্তমান সরকার সে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কাজও শুরু হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্লাস্টিক ও পলিথিনের কারণে জলাবদ্ধতা

প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতল—এসব ফেলার কারণে শহরাঞ্চলে খাল, ড্রেন, নালাগুলো বন্ধ হয়ে যায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিভিন্ন জায়গায় খাল খনন করছে। ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। ঢাকা শহরে কয়েকটি জায়গায় এটি করা হয়েছে। কিন্তু ৭–১০ দিনের মধ্যে মানুষ আবার অসচেতনভাবে এগুলোতে ময়লা ফেলে ‘ব্লক’ করে দিচ্ছে।

সরকার উদ্যোগ নিলেও এ ক্ষেত্রে জনগণের সচেতন করতে সংসদ সদস্যদের উদ্যোগী ভূমিকা প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, জনমত তৈরি এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন বা এ–জাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার কমানো বা সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এটি সরকারের পক্ষ থেকে হচ্ছে, তবে সংসদ সদস্যদেরও নৈতিক দায়িত্ব জনগণকে সচেতন করা।

বিএনপির সংসদ সদস্যের বক্তব্য

এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিএনপির সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। এ মুহূর্তে চট্টগ্রামের মানুষ পানিতে ভাসছে। সাধারণ মানুষ, যাদের বাসা ছিল না, তাদের জীবন আসলেই আক্ষরিক অর্থে পানিতে ভাসছে। চট্টগ্রামজুড়ে গলা পর্যন্ত পানি। মানুষ ভাবছে, চট্টগ্রামের এই সমস্যার কোনো দিন সমাধান হবে না। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি দাবি জানান।