গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং এটি প্রধানমন্ত্রীর নীতি। অতীতের ঘটনাবলি থেকে বেরিয়ে আসার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিএসআরএফ সংলাপে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
সোমবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’–এ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। অনলাইনে ভুয়া তথ্য ও চরিত্রহনন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ‘ডিজইনফরমেশন’ মোকাবিলায় নির্ভুল সংবাদ জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের এখন প্রধান লক্ষ্য।
সঠিক তথ্য ও ডিজিটালাইজেশন
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই এক্সজ্যাক্টলি (প্রকৃত) তথ্যই জনগণের সামনে আসুক। অনলাইনে যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা প্রতিরোধে আমরা কাজ করছি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডিজিটালাইজেশন–প্রক্রিয়া জোরদার করার পাশাপাশি গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়মুক্ত পরিবেশ
বর্তমান সরকারের সময়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছর ভয়ে ছিলেন, এখনো কি ভয় পাবেন? এটলিস্ট (অন্তত) আপনারা গত দুই মাসে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন।...মিডিয়া যেভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে, এটা অব্যাহত থাকবে এইটুক আপনাদের বলতে পারি।’
সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টন ও সাংবাদিকদের সুবিধা
সরকারি বিজ্ঞাপন বণ্টন নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোনো গণমাধ্যম বঞ্চিত না হয় এবং বিজ্ঞাপন বণ্টনে বৈষম্য কমে।
সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা ও ওয়েজ বোর্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। আসন্ন বাজেটে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের স্থান সংকট
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত স্থান নিয়ে তিনি মোটেও সন্তুষ্ট নন। এত বড় মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের জন্য যে জায়গা রাখা হয়েছে, তা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত ও অবহেলিত। এটি আধুনিকায়ন করা জরুরি এবং এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সংলাপের অন্যান্য অংশগ্রহণকারী
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হক। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (রুটিন দায়িত্ব) ইয়াকুব আলী।



