দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে ভোট গ্রহণ চলে। নওগাঁ-২ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট বাতিল করা হয়। মোট ভোটার ১১ কোটি ৯৩ লাখ ৩৩ হাজার ১৫৭ জন, যার মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫ লাখ ৯২ হাজার ১৬৯ এবং নারী ৫ কোটি ৮৭ লাখ ৪০ হাজার ১৪০। হিজড়া ভোটার ৮৪৮ জন। ২৮টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেয়, বিএনপিসহ কিছু দল বর্জন করে।
প্রধানমন্ত্রীর ভোট প্রদান
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা রাজধানীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে সকাল ৮টায় ভোট দেন। তিনি বলেন, জনগণের ওপর তাঁর বিশ্বাস আছে এবং নৌকার জয় হবে। তিনি দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, অনেক বাধা সত্ত্বেও সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে।
বিভিন্ন ঘটনা
নরসিংদী-৪ আসনের ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১২টি ব্যালট বই ছিনিয়ে নিয়ে নৌকা প্রতীকে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে ভোট গ্রহণ বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের ছেলে মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদীর নামে অভিযোগ রয়েছে।
মাগুরা-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাকিব আল হাসান প্রথমবার রাজনীতিবিদ হিসেবে ভোট দেন। তিনি আশা করেন, মানুষ ভোট দিতে আসবেন।
কুষ্টিয়া-২ আসনের মিরপুর উপজেলার শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি বুথে ৫০ মিনিটে একটিও ভোট পড়েনি।
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে ভোটকেন্দ্রের পাশে আওয়ামী লীগের এক সমর্থককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত মো. জিল্লুর রহমান মিরকাদিম পৌর শ্রমিক লীগের সহসভাপতি।
চট্টগ্রাম-১০ আসনের খুলশীর পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে নৌকা ও ফুলকপি প্রতীকের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন গুলিবিদ্ধ হন।
রাজধানীর হাজারীবাগের একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে এক শিশুসহ তিনজন আহত হন।
খাগড়াছড়ির পানছড়িতে জাল ভোট দেওয়ার অপরাধে ৪ জনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রাজধানীর বনানী মডেল স্কুল কেন্দ্রে বিদেশি পর্যবেক্ষক আসার আগে ভোটারের দীর্ঘ সারি দেখা যায়, কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর কেন্দ্র প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়।
ভোটের হার
বেলা ৩টা পর্যন্ত সারা দেশে গড়ে ২৬.৩৭ শতাংশ ভোট পড়ে। বিভাগভেদে ভোটের হার: ঢাকা ২৫%, চট্টগ্রাম ২৭%, খুলনা ৩২%, সিলেট ২২%, ময়মনসিংহ ২৯%, রাজশাহী ২৬%, রংপুর ২৬% এবং বরিশাল ৩১%। নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান আশা করেছিলেন ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে।
প্রার্থীদের বর্জন ও অনিয়ম
সারা দেশে ভোটের দিনে ২৮ প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেন। ১৪০টি কেন্দ্রে অনিয়মের ঘটনা ঘটে এবং ৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল জানান, প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গণনার ফলাফল
গণনায় দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, সাবের হোসেন চৌধুরী, সালমান এফ রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এগিয়ে আছেন। তবে কিছু আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। মাগুরা-১ আসনে সাকিব আল হাসান ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়ে জয়ী হন।
আওয়ামী লীগের মতিয়া চৌধুরী, এম এ মান্নান, টিপু মুনশি, হাছান মাহমুদ, মাশরাফি বিন মুর্তজা, দীপু মনি প্রমুখ জয়ী হন। জাসদের হাসানুল হক ইনু ও ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা হেরে যান। বিএনএমের ডলি সায়ন্তনীও পরাজিত হন। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৮ আসনে হেরে যান।
নির্বাচনে মোট ২৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। বিএনপিসহ নিবন্ধিত বাকি দল এবং আরও কিছু বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করে।



