ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা দিল্লি পৌঁছালেন, ধরনার অনুমতি নিয়ে শঙ্কা
ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা দিল্লি পৌঁছালেন, ধরনার অনুমতি শঙ্কা

দিল্লির সংসদ ভবনের অদূরে যন্তর মন্তরে তেলাপোকারা শান্তিপূর্ণ ধরনায় বসার অনুমতি পাবেন কি না, তা এখনো অজানা। অনিশ্চিত এই পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে দিল্লি পাড়ি দিয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। আগামীকাল শনিবার সকাল আটটায় দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি চলে যাবেন পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় ধরনায় বসার অনুমতি চাইতে।

কেন দেশে ফিরছেন অভিজিৎ?

নিটসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ নানা দাবিতে যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালনে দেশে ফিরছেন অভিজিৎ। দিনকয়েক আগে সে কথা জানিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, সময় এসেছে পথে নামার।

ককরোচ জনতা পার্টির উত্থান

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক মামলার শুনানিতে বেকার এক শ্রেণির তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করলে তার প্রতিক্রিয়ায় ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে ওঠে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রথাগত কোনো রাজনৈতিক দল নয় এটি। তবে গত ১৬ মে আত্মপ্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হু হু করে বাড়ছে এর অনুসারী।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এরপর ভারতে ওয়েবসাইট ‘ব্লক’ করে দেওয়াসহ নানা হুমকির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন অভিজিৎ দীপকে। ফেরার ঘোষণা দিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে বলেছিলেন, ‘তেলাপোকা’রা যেন দলে দলে বিমানবন্দরে চলে আসেন। সেখান থেকেই শুরু হবে সংবিধানের আওতায় গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের ময়দানি আন্দোলন।

সিদ্ধান্ত পরিবর্তন

তবে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ওড়ার আগে তিনি আগের আহ্বান থেকে সরে এসে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, বিমানবন্দরে আসার প্রয়োজন নেই। কারণ, প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সাড়া পাওয়া গেছে। তাই সিদ্ধান্ত বদলানো হচ্ছে। বিমানবন্দরে ভিড় জমা হলে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে। যাত্রী ও নিরাপত্তাকর্মীদের অসুবিধা হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আরেকটি কারণও জানান অভিজিৎ। তিনি বলেন, বিরোধীরা সুযোগ খুঁজছে তাঁদের আন্দোলনকে বদনাম করার। যেকোনো বিচ্যুতির সুযোগ খুঁজছে তারা। সেই সুযোগ দেওয়া যাবে না। তাই সংযত থেকে যন্তর মন্তরেই সবাইকে জড়ো হতে হবে।

অনুমতি নিয়ে শঙ্কা

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, দিল্লি পুলিশ ককরোচ পার্টির সমর্থকদের জমায়েতের অনুমতি দেবে কি না? আগামীকাল শনিবার সকালে অভিজিৎ দীপকে যখন থানায় যাবেন, শোনা যাচ্ছে তখন তাঁর সঙ্গী হবেন লাদাখের অধিকারকর্মী, শিক্ষাবিদ ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত সোনম ওয়াংচুক। সোনম ওয়াংচুক লাদাখের পরিবেশরক্ষা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দাবিদাওয়া নিয়ে অনেক দিন ধরেই আন্দোলন করছেন। জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কারণ দেখিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে তিনি মুক্তি পান। তিনি ‘তেলাপোকা’দের সমর্থনে আন্দোলনে শামিল হলে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখার বিষয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের সমর্থন পাওয়া ককরোচ জনতা পার্টির উদ্দেশ্য নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সন্দিহান হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন দল বিজেপি প্রচার করছে, এই আন্দোলনকারীদের পেছনে পাকিস্তানি মদদ রয়েছে। মদদ রয়েছে ‘ভারতবিরোধী’ মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরসের। তাঁর দরুন ককরোচ পার্টির অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। অভিজিৎ দীপকেও একসময় সংশয় প্রকাশ করে বলেছিলেন, দেশে ফিরলে তাঁর স্থান হতে পারে দিল্লির তিহার জেল।

অভিজিতের বক্তব্য

বোস্টন ইউনিভার্সিটির স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী, ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে শুক্রবার দেশের পথে যাত্রা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘ভারত রওনা হলাম। ভাগ্যকে সংবিধানের হাতে সঁপে দিয়েছি। জয় ভীম।’

সংবাদ সম্মেলন ও সমর্থন

এদিকে দিল্লিতে গত বুধবার ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছিলেন, শনিবারের ধরনা কর্মসূচিতে সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকেরা স্বাগত জানাবেন। তবে তাঁদের যোগ দিতে হবে দলীয় পতাকা ছাড়াই। নিটসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষার্থীদের বিপত্তি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ককরোচ জনতা পার্টি যেমন জানিয়ে আসছে, তেমনি কংগ্রেসসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও এই দাবিতে মুখর। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেননি। ককরোচ জনতা পার্টির ধরনার উদ্দেশ্য এই আন্দোলনকে তীব্রতর করে তোলা।

সোনম ওয়াংচুক ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন পেশার বহু কৃতী মানুষ এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যেমন, চিত্রপরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ, কুণাল কোহলি, অভিনেত্রী কঙ্কণা সেন শর্মা, দিয়া মির্জা, ফতিমা সানা শেখ, এষা গুপ্তা। কৌতুক শিল্পী কুণাল কামরা এবং তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও সাবেক ক্রিকেটার কীর্তি আজাদও যোগদানের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

সিজেপির মুখপাত্র ও অভিজিতের পটভূমি

সম্প্রতি সিজেপি তিনজন মুখপাত্রের নাম ঘোষণা করেছে। তাঁরা হলেন—অনুসন্ধানী সাংবাদিক সৌরভ দাস, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বিজেতা দাহিয়া ও সাবেক ম্যাকিন্সে কর্মী এবং আম আদমি পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আম আদমি পার্টির (আপ) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দলটির সোশ্যাল মিডিয়া টিমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে দলটির ডিজিটাল প্রচারণায় বড় ভূমিকা রাখেন।

ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্ররা জানিয়েছেন, এটা তরুণদের দল। সোনম ওয়াংচুককে সরকার যখন গ্রেপ্তার করতে পারে, তখন অভিজিৎকেও আটক করাও অসম্ভব নয়। কিন্তু তাতে এই আন্দোলন থামবে না। তরুণরা এগিয়ে যাবে।