চট্টগ্রাম নগরের রাসমণি ঘাট গোলচত্বর এলাকায় আজ বুধবার সকালে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সড়কের ওপর মাছ ও বরফ ছিটিয়ে বিক্ষোভ করেছেন জেলেরা। স্থানীয় আড়তদার ও বাসিন্দারাও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বিক্ষোভের বিবরণ
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় শতাধিক জেলে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা সড়কের একপাশে অবস্থান নিয়ে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। একপর্যায়ে সড়কের ওপর মাছ ও বরফ ছিটানো শুরু করেন এবং গ্যাস সিলিন্ডারও ফেলে রাখেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগ
বিক্ষুব্ধ জেলেরা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মো. দিদারুল ফেরদৌসের নেতৃত্বে একটি চক্র গত ২৩ এপ্রিল থেকে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায়ের নামে রাসমণী ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজি করছে। ঘাটে প্রতি টুকরা বরফে ৫ টাকা, প্রতি কেজি মাছে ৫ টাকা ও প্রতি গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য ১০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় নেতার বক্তব্য
কর্মসূচিতে উপস্থিত রানি রাসমণি ইলিশ ঘাট ব্যবসায়ী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, ‘জেলেদের পেশা ও জীবিকার স্বার্থে এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাই।’
সিটি করপোরেশনের ভূমিকা
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভূসম্পত্তি শাখার এক অফিস আদেশে পতেঙ্গা আউটার রিং রোডের পশ্চিম পাশের রাসমণি ঘাটে খাস আদায়ের জন্য দুই ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাবেক যুবদল নেতা মো. দিদারুল ফেরদৌস এবং নগর শাখা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন রয়েছেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য
চাঁদাবাজির বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. দিদারুল ফেরদৌসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। মো. আনোয়ার হোসেন চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মাছ বা বরফের ওপর চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। তাঁরা কেবল বৈধ রাজস্ব আদায় করছেন। কয়েকজন ব্যবসায়ী ইজারা না পেয়ে আমাদের বিরুদ্ধে এসব করাচ্ছেন।’
সিটি করপোরেশনের অবস্থান
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনসংযোগ শাখায় যোগাযোগ করতে বলেন। তবে জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুল আজিজ ফোন রিসিভ করেননি।



