ভারতের তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইডি জানিয়েছে, হিসাব তিনটিতে মোট ৪৪০ কোটি ৪২ লাখ টাকা জমা ছিল।
ইডির অভিযোগ ও তদন্তের বিবরণ
এক বিবৃতিতে ইডি জানায়, তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি এইচডিএফসি ব্যাংক হিসাবে এই অর্থ জমা ছিল। সংস্থাটির অভিযোগ, দলীয় তহবিল থেকে বড় পরিসরে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন করা হয়েছে। অর্থ পাচার ও তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগে এই লেনদেনের তদন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অভিযান ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানি
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে দিল্লির ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়নের (এনসিআর) পাঁচটি স্থানে অভিযান চালিয়েছে ইডি। জানা গেছে, স্থানগুলোর সব কটিই এভিয়েশন খাতে যুক্ত ‘কেয়ারওয়েল গ্রুপ অব কোম্পানিজ’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে তৃণমূলের হিসাব থেকে ‘কেয়ারওয়েল এভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং এর সঙ্গে যুক্ত আরেকটি কোম্পানির হিসাবে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।
অর্থের ব্যবহার ও আকাশযান ক্রয়
সংস্থাটির দাবি, এরপর কেয়ারওয়েল এভিয়েশন তাদেরই নতুন গঠিত একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের হিসাবে প্রায় ৮২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা পাঠায়। তদন্ত চলাকালে ইডি জানতে পারে, এ অর্থের একটি বড় অংশ এমব্রায়ার লিগ্যাসি ৬০০ বিমান এবং অগাস্টা ১০৯ এসপি হেলিকপ্টার কিনতে ব্যবহার করা হয়েছে। ইডির তথ্যমতে, এ দুটি আকাশযান কিনতে মোট ১১২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
বিদেশি তহবিলের উৎস অনুসন্ধান
তদন্তকারী সংস্থাটি আরও জানায়, অগাস্টা হেলিকপ্টার কেনার ক্ষেত্রে কিছু বিদেশি তহবিলও ব্যবহার করা হয়েছে, যদিও এর সিংহভাগ অর্থই সরাসরি তৃণমূলের হিসাব থেকে এসেছে। ইডি এখন এ বিদেশি তহবিলের উৎস এবং এতে কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে কিনা, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
সন্দেহজনক আর্থিক কাঠামো
সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব আকাশযান কেনার পরও সেগুলো আবার তৃণমূলকে ভাড়ায় দেওয়া হয় এবং ‘ব্যবহারের’ নামে আবারও বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা হয়। কর্মকর্তারা জানান, পুরো আর্থিক কাঠামোটি অত্যন্ত সন্দেহজনক। সম্ভবত প্রকৃত লেনদেন ও সুবিধাভোগীদের আড়াল করার উদ্দেশ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে অর্থের উৎস, তহবিলের ব্যবহার, বিদেশি অর্থায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর মধ্যে হওয়া লেনদেনগুলো গভীরভাবে তদন্ত করছে ইডি। সংস্থাটি জানিয়েছে, তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।



