বসিলায় গরুর হাট নিয়ে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে বিরোধ ছিল টিটনের
বসিলায় গরুর হাট নিয়ে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে বিরোধ ছিল টিটনের

বসিলায় গরুর হাট নিয়ে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে বিরোধ ছিল আরেক ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ নাঈম আহমেদ টিটনের। এ তথ্য জানিয়েছেন নিহত টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন। তার দাবি, হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার কয়েক দিন আগে বসিলার গরুর হাট নিয়ে হেলালের সঙ্গে বিরোধের কথা তাকে বলেছিলেন টিটন।

টিটনের বড় ভাইয়ের বক্তব্য

রিপন বলেন, “আমারে বলছে, পিচ্চি হেলালের সঙ্গে বসিলার গরুর হাট নিয়ে ঝামেলা চলতেছে। একটু পরে আবার বলছে, না বড় ভাই, ওরকম কিছু না, ঠিক হয়ে যাবে। দোয়া কইরেন।”

রিপন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে টিটন দু’বার গ্রামের বাড়ি যশোরে গিয়েছিলেন। তাদের পরিবারের সদস্য সানজিদুল ইসলাম ইমনের সঙ্গে বিরোধকে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। এ বিষয় জানতে চাইলে টিটনের বড় ভাই বলেন, “ইমনের সঙ্গে কোনও বিরোধ ছিল বলে আমি জানি না। পরিবারের ভাই-বোনের মধ্যে ছোটখাটো ঘটনা থাকতে পারে। এটা খুন করার মত কোনও বিরোধ বলে আমি মনে করি না।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইমন সম্পর্কে রিপনের মতামত

জামাতা হলেও ইমন তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি যত্নবান দাবি করে রিপন বলেন, “ইমন আমার মায়েরও যত্ন করতো। আমার দৃষ্টিতে সে (ইমন) ভালো ছেলে।”

এদিকে, বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) মর্গ থেকে ছোট ভাই টিটনের লাশ বুঝে নেন রিপন। এছাড়া টিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করেছেন তিনি।

মামলার বিষয়ে পুলিশের তথ্য

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউ মার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, “টিটন হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বুধবার সকালে অজ্ঞাতনামা আট থেকে নয়জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গতকাল মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নিউ মার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ নেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় টিটনকে গুলি করে হত্যা করে মোটরসাইকেল আরোহী দুই মুখোশধারী। ২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীর’ তালিকার দুই নম্বরে ছিল তার নাম। টিটনের ভগ্নিপতি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমন। তারা দু’জনই মোহাম্মদপুরের সন্ত্রাসী চক্র হারিছ-জোসেফ গ্রুপে যুক্ত ছিলেন। টিটনের তৎপরতা ছিল ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায়।

আন্দোলনের পর পলাতক টিটন

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর টিটনসহ পুলিশের তালিকায় থাকা আরও কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর টিটন আর আদালতে হাজিরা না দিয়ে পলাতক ছিলেন।