তাপস দম্পতির ক্রেডিট কার্ড ব্লক: দুদকের আবেদনে আদালতের নির্দেশ
তাপস দম্পতির ক্রেডিট কার্ড ব্লক: আদালতের নির্দেশ

তাপস দম্পতির ক্রেডিট কার্ড ব্লক: দুদকের আবেদনে আদালতের নির্দেশ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস এবং তার স্ত্রী আফরিন তাপসের নামে মধুমতি ব্যাংক পিএলসিতে থাকা ছয়টি ক্রেডিট কার্ডের ডেবিট কার্যক্রম ব্লকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২০ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ জারি করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের আবেদন ও আদালতের সিদ্ধান্ত

এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস রহমান পৃথক দুটি আবেদন আদালতে পেশ করেন। ওইসব আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামি তাপস ও তার স্ত্রী আফরিনের নামে থাকা ক্রেডিট কার্ডগুলোর মাধ্যমে যাতে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে না পারেন, সেজন্য কার্ডগুলোর ডেবিট কার্যক্রম ব্লক করা একান্ত প্রয়োজন। তদন্তকালে জানা যায়, আসামিরা এসব ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।

মামলা নিষ্পত্তির আগে এসব ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করলে তদন্ত কার্যক্রম বিঘ্নিত হতে পারে বলে দুদক আশঙ্কা প্রকাশ করে। এজন্য কার্ডগুলোর ডেবিট কার্যক্রম ব্লক করা জরুরি বলে আদালতকে জানানো হয়। আদালত এই যুক্তি মেনে নিয়ে ব্লকের নির্দেশ দেন, যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ

গত বছরের ৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে শেখ ফজলে নূর তাপস ও তার স্ত্রী আফরিন তাপসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৭৩ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এছাড়া তার বিরুদ্ধে ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৩৯ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ টাকা এবং ৫ লাখ ১৭ হাজার ৫২৭ ডলারের অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় তাপসের স্ত্রী আফরিন তাপসও ৬ কোটি ৪০ লাখ ৮৯ হাজার ৯৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। তার নয়টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৭০ কোটি ৮৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬৬৯ টাকা এবং ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৩ ডলারের অস্বাভাবিক লেনদেন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই মামলাটি দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশ তদন্তের গতি বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।