রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডাদেশে ‘সন্তুষ্টি’ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ। রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীন এই মামলার ১৯ দিনের মাথায় বিচার প্রক্রিয়া শেষে রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়া
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘রামিসার পরিবার ন্যায় বিচার পেয়েছে, আমরা সন্তুষ্ট।’ এর আগে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক ১১টা ৫ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন। সব সাক্ষ্য-প্রমাণের আলোকে তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং এর পাশাপাশি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
জরিমানা ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তি
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, জরিমানার টাকা আদায়ের পর ভুক্তভোগীর আত্মীয়দের সেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। আসামিরা অর্থ প্রদানে ব্যর্থ হলে জেলা কালেক্টর দোষীদের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা আদায়ের উদ্যোগ নেবেন। রায় শুনতে আদালতে উপস্থিত হন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী রামিসার বাবা হান্নান মোল্লাও। তিনি এসময় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের প্রত্যাশার কথা জানান। রায়ের পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান তিনি।
দ্রুত বিচার কার্যক্রম
গত বৃহস্পতিবার এই মামলার বিচার কার্যক্রম মাত্র চার কার্যদিবসে শেষ করেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ রায়ের দিন ধার্য করেন। বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ক্ষেত্রে এত কম সময়ে বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়ার নজির অত্যন্ত বিরল।



