নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের পর ধারাল ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্ত মুন্না মিয়া নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
গ্রেফতার ও আদালতে প্রেরণ
মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে জেলা শহর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সকালে তাকে মোহনগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়। গ্রেফতার মুন্না মিয়া (২৫) মোহনগঞ্জ উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের রানা হিজল গ্রামের শহিদ আলমের (ছোট্টন) ছেলে। মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার দুপুরে মুন্নাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
র্যাব, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিশুটির পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র, কোনো সহায়-সম্পত্তি না থাকায় তারা গ্রামে অন্যের বাড়িতে বসবাস করে। গত ১২ জুন রাত ১০টার দিকে শিশুটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হয়।
এ সময় সেখানে ওতপেতে থাকা প্রতিবেশী মুন্না শিশুটির মুখ গামছা দিয়ে প্যাঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে মুন্না শিশুটির মুখ, হাত ও পা গামছা দিয়ে বেঁধে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ধারাল ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ভয়ে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায়নি।
পরবর্তী ঘটনা ও মামলা
ধর্ষণের ফলে শুরু হওয়া রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় পরদিন শিশুটি তার ফুফুকে বিষয়টি খুলে বলে। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুর বাবাকে বিষয়টি অবগত করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা জানার পর শিশুর বাবা ও ফুফু অভিযুক্ত মুন্নার বাবার কাছে বিচার চাইতে যান। অভিযুক্তের বাবা ঘটনাটি শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে চরম ভয়ভীতি দেখান এবং হুমকি দেন।
পরে রাতে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মুন্নার বিরুদ্ধে মোহনগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় রাতেই মামলা গ্রহণ করে পুলিশ। মামলার পরপরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গা-ঢাকা দেয় মুন্না।
গ্রেফতার অভিযান
পলাতক মুন্নাকে ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করে। একপর্যায়ে আজ মঙ্গলবার ভোরে নেত্রকোনা শহরের সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় মুন্নার অবস্থান সনাক্ত করা হয়। পরে ময়মনসিংহ র্যাব-১৪ এর একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।



