ডিবি কার্যালয়ের ‘শহীদ রবিউল গেট’ নামফলক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
ডিবি কার্যালয়ের ‘শহীদ রবিউল গেট’ নামফলক সরানো

ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলায় নিহত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তৎকালীন সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল করিমের স্মরণে ডিবি কার্যালয়ের প্রধান ফটকের নামকরণ করা হয়েছিল ‘শহীদ রবিউল গেট’। বর্তমানে সেখানে গেলে আর বোঝার উপায় নেই যে এটি শহীদ রবিউল গেট। কারণ, ফটকে থাকা রবিউল করিমের নামফলকটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নামফলকটি কে, কখন বা কীভাবে সরিয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।

নামফলক সরানোর ঘটনায় পুলিশের ব্যাখ্যা নেই

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ডিবির অতিরিক্ত কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে ডিবি গেটের নাম পরিবর্তন করা হয়নি। তবে রবিউল করিমের নামফলকটি কে বা কারা এবং কখন সরিয়েছে, সে বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

ডিবি কার্যালয় রাজধানীর অন্যতম সুরক্ষিত স্থাপনা। সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা নজরদারির আওতায় থাকে। এমন একটি সুরক্ষিত স্থাপনার প্রধান ফটক থেকে নামফলক সরিয়ে নেওয়া হলেও এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি পুলিশ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হোলি আর্টিজান হামলা ও রবিউল করিমের মৃত্যু

২০১৬ সালের ১ জুলাই শুক্রবার সন্ধ্যার পর গুলশানের অভিজাত রেস্তোরাঁ হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালান নব্য জেএমবির সদস্যরা। সেখানে থাকা দেশি–বিদেশি অতিথিদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন তাঁরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এরপর র‍্যাব, সোয়াট, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রথম দফায় জিম্মিদের উদ্ধারে এগিয়ে গেলে হামলাকারীদের বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার রবিউল করিম এবং বনানী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন খান। পরে তাঁরা মারা যান। হামলার পরদিন সকালে ওই রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে ভেতর থেকে ২০ জিম্মির লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

নামফলক সরানোর সময় নিয়ে ধারণা

নিহত রবিউল করিম ছিলেন পুলিশের ৩০তম (বিসিএস) ব্যাচের কর্মকর্তা। তাঁর এক ব্যাচমেট প্রথম আলোকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে তোলা ডিবি কার্যালয়ের ফটকের দুটি ছবি দিয়েছেন। ছবিগুলোতে ‘শহীদ রবিউল গেট’ লেখা নামফলক স্পষ্ট দেখা যায়। ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ডিবি কার্যালয়ের সামনে ভাঙচুরের চেষ্টা হয়েছিল। সে সময় ফটক ও দেয়ালে বিভিন্ন ধরনের স্লোগানও লেখা হয়েছিল। কিন্তু তখনো শহীদ রবিউল গেটের নামফলকটি অক্ষত ছিল। ঘটনার প্রায় দুই মাস পর তোলা ছবিতেও নামফলকটি স্পষ্ট দেখা যায়।

ফলে ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর কোনো এক সময় নামফলকটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেটি কার নির্দেশে বা কী কারণে করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া

ডিবি গেটের নামফলক সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এসি রবিউল করিমের স্ত্রী উম্মে সালমা প্রথম আলোকে বলেন, “রবিউল মানুষের মঙ্গলের জন্য জীবন দিয়েছিলেন। সে কারণেই তাঁকে সম্মান জানাতে ডিবি গেটের নাম করা হয়েছিল শহীদ রবিউল গেট। এখন সেখানে যদি তাঁর নাম না থাকে, বিষয়টি দুঃখজনক।”