আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশ মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে রাজধানীর পুরানা পল্টনের একটি হোটেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বেতারের সাবেক প্রধান কারি ও লালবাগ শাহী মসজিদের ইমাম মাওলানা কারি আবু রায়হানের ওপর সংঘটিত হামলার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানানো হয়। সংস্থাটির মহাসচিব শায়েখ সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী এ দাবি জানান।
হামলার ঘটনা
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালিবাজাইল গ্রামে স্থানীয় জামায়াতের কর্মী মোশাররফ ধারালো শাবল দিয়ে হামলা চালিয়ে মাওলানা কারি আবু রায়হানের রানের হাড় ভেঙে দেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন রয়েছে।
পূর্বপরিকল্পিত হামলার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ঘটনাটি কোনো সাধারণ জমি বা সীমানাপ্রাচীর সংক্রান্ত বিরোধের ফল নয়; বরং এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হামলা। বক্তারা দাবি করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে কারি আবু রায়হানকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করে আসছিলেন এবং হামলার পরও প্রকাশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এ সময় পরিবার ও সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করে বলা হয়, হামলার পর স্থানীয় থানা প্রথমদিকে মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণে অনীহা দেখায়। হাসপাতালের চিকিৎসা প্রতিবেদন, ছবি ও ভিডিও উপস্থাপন করার পরও দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও তারা দাবি করেন। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলে প্রশাসন সক্রিয় হয় এবং মূল অভিযুক্তকে আটক করা হয়।
তিন দফা দাবি
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, একজন প্রবীণ আলেমের ওপর এমন নৃশংস হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের কারণে অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
- মূল হামলাকারী মোশাররফ ও আলমসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তির দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
- ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার কালিবাজাইল গ্রামে অবস্থানরত কারি আবু রায়হানের পরিবার, বিশেষ করে তার ভাইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা এবং মামলা গ্রহণে প্রাথমিক অনীহার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা।
উপস্থিত প্রতিনিধিরা
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা সালাহউদ্দিন জাহাঙ্গীর, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদরিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সরকারি মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা এনামুল হক মুসা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শায়খুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সংস্থা বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ, মাওলানা গাজী আহমদ আব্দুল্লাহ মুসা প্রমুখ।



