পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলামের অবসরকালীন বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে রেষারেষি ও মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে স্কুলমাঠে প্যান্ডেল করে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি করা হয় বিএনপির সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদারকে। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মঞ্চ ও প্যান্ডেল ভাঙচুর করেন।
ঘটনার বিবরণ
প্রধান শিক্ষকের রুমে ঢুকে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আমিরুল ইসলাম উচ্চস্বরে চিৎকার করে সিরাজ সরদারকে প্রধান অতিথি করার প্রতিবাদ জানান। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তৈরি করা খাবারও নষ্ট করে ফেলেন। প্যান্ডেলের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর ও শামিয়ানা ছিঁড়ে ফেলা হয়। আয়োজকরা জানান, প্রায় ৩০০ মানুষের দুপুরের খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল।
বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত নির্বাচনে যারা জামায়াতে ইসলামের পক্ষে কাজ করেছে তাদের নিয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান করা ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও স্কুল পরিচালনা কমিটির স্বঘোষিত প্রস্তাবিত কমিটির সভাপতি দাবিদার ফজলুর রহমান এ কাজটি করেছেন।
ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিক বলেন, "যারা গত নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে হারানোর জন্য কৌশলে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করেছেন, তাদের নিয়ে অনুষ্ঠান আমরা মানব না।"
আয়োজকদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান শেখ জানান, "অনুষ্ঠানটি ছোট আঙ্গিকে করার কথা ছিল; কিন্তু তারা প্যান্ডেল করে বড় আয়োজন করেছিল যা আমরা জানি না।" এ আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষা অফিসার শাহীনা আক্তার, জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদার ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর দুলাল সরদার।
ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।



