জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সরকারকে সময় দিতে হবে: আবদুস সালাম
জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সরকারকে সময় দিন: আবদুস সালাম

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সময় দিতে হবে। দুই মাসের মধ্যেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের কাছে আলাদিনের চেরাগ নেই।

স্মরণ সভায় বক্তব্য

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সুনীল গুপ্তের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, সারা পৃথিবীতে বর্তমানে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এর প্রভাব পড়ছে। তবে এসব সংকটের মধ্যেও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান কখনো হতাশার কথা বলেননি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তারেক রহমান প্রসঙ্গে

তিনি বলেন, তারেক রহমান কখনো বলেননি যে আমরা কিছুই পারব না বা আমাদের অর্থনীতি শেষ। কারণ তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার। জিয়াউর রহমান সবসময় বলতেন- টাকা কোনো সমস্যা না, দুর্নীতি যদি রোধ করা যায় তাহলে বাংলাদেশে টাকার কোনো সংকট থাকবে না। তারেক রহমান আজ জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এবং জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে।

সুনীল গুপ্তের প্রতি শ্রদ্ধা

স্মরণসভায় প্রয়াত সুনীল গুপ্তকে স্মরণ করে আবদুস সালাম বলেন, তিনি ছিলেন একজন সৎ ও ভালো মানুষ, যা আজকের দিনে বিরল। একসঙ্গে রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী- তারপরও ভালো মানুষ হওয়া খুব কঠিন; কিন্তু সুনীলদা রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী হয়েও ভালো মানুষ ছিলেন, এজন্যই মানুষ তাকে এখনো স্মরণ করে।

রাজনীতিতে ভালো মানুষের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা নিজেদের সবচেয়ে সৎ দল বলে দাবি করে, তাদের কর্মকাণ্ড তা প্রমাণ করে না। গত নির্বাচনে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এত সৎ মানুষের দল এত টাকা কোথা থেকে পেল- এটা এখন মানুষের প্রশ্ন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জুলাই সনদ ও বিএনপির অবস্থান

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, জুলাই সনদ কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে এ অবস্থায় এসেছে বিএনপি। বিএনপিকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই। কৃষক-শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের অন্তরে বিএনপির শিকড় গভীরভাবে প্রোথিত এবং দেশের প্রতিটি এলাকায় আজ দলটির অবস্থান রয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি এককভাবে নয়, বরং জাতীয়ভাবে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছে। সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষক- সবাই এতে অংশ নিয়েছে।

বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান

বিরোধী দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, অল্প সময়েই সরকারকে ব্যর্থ ঘোষণা করার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে ধৈর্য ধরতে হবে।

স্মরণসভায় উপস্থিতি

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বাবু বিজন কান্তি সরকারের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক সচিব ও ভাইস চেয়ারম্যান বাবু তপনচন্দ্র মজুমদার, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন নসু, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা নজমুল হক নান্নু, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমোলেন্দু দাশ অপু, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ।

সভায় বক্তারা প্রয়াত সুনীল গুপ্তের রাজনৈতিক জীবন, সততা ও অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।