জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তিনি বিরোধী দলীয় নেতাদের জিয়া পরিবার থেকে মানুষকে মুক্ত করার প্রসঙ্গ টেনে আনলে বিরোধী দলের সদস্যরা হট্টগোল শুরু করেন।
বিরোধী দলীয় নেতার প্রতিক্রিয়া
বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, 'আমি পড়েছি মসিবতে, মাননীয় স্পিকার। সবাই আমাকে ভালোবাসে তো, তাই আমাকে নিয়ে সবাই কৌতুক করে।' তিনি আরও বলেন, 'পার্থ সাহেব খুব ভালো ডিবেট করতেন এবং প্রচুর ম্যাটেরিয়ালস নিয়ে এসেছেন। তিনি কিছু সঠিক ও কিছু বেঠিক বক্তব্য দিয়েছেন।'
জামায়াত আমিরের চ্যালেঞ্জ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান পার্থের বক্তব্যের জবাবে বলেন, 'তিনি (পার্থ) বলেছেন, জিয়া পরিবারকে নিশ্চিহ্ন কিংবা হাবিজাবি করতে বলেছি। আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি—কোথায়, কখন এবং কিভাবে তিনি এটি পরিষ্কার করবেন। আমি এ ধরনের রেকলেস কথা বলি না। এমনকি শেখ হাসিনার নামেও আমি বলি না। যে দোষ করবে, সে-ই তার দায় নেবে। অন্য কেউ বললে সেটি আমার নামে চালানো যাবে না। আমি তাকে অনুরোধ করছি, বক্তব্যে মাধুর্য ছড়াতে গিয়ে ভবিষ্যতে যেন আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য না করেন।'
পার্থের জবাব ও হট্টগোল
জবাবে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, 'এই যে আমার হাতে ডকুমেন্টস আছে, জিয়া পরিবার থেকে মানুষকে মুক্ত করার কথা এনসিপির এক নেতা বলেছেন।' এ কথা বলার পর পুনরায় হট্টগোল শুরু হলে পার্থ বিরোধী দলীয় সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, 'এত উত্তেজিত হবেন না।'
ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, 'সম্মানিত সংসদ সদস্যরা, দয়া করে আপনাদের আসন গ্রহণ করুন। দয়া করে স্পিকারকে কথা বলতে দিন। একজন সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখছেন। আপনি এটি পছন্দ করতেও পারেন, আবার নাও করতে পারেন। কিন্তু আপনার কোনো অধিকার নেই এভাবে কথা বলার। বিরতির আগে স্পিকার বলেছেন, প্রত্যেকের স্বাধীনতা আছে। স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে আপনাদের কথা বলার অধিকার রয়েছে। কিন্তু একজন আরেকজনকে এভাবে আক্রমণ করার অধিকার নেই।'
পার্থের ব্যাখ্যা
পার্থ আরও বলেন, 'আমরা তো এখানে এ বছরের জন্য আসিনি, অনেক সময়ের জন্য এসেছি। আমরা একসঙ্গে রাজনীতি করি। তিনি ১১ দলীয় নেতা, তাই হয়তো তার নাম ধরেই শুরু করেছি। এই ক্লিপগুলোতে আরও অন্যান্য কথা রয়েছে, এজন্য আমি ব্যাখ্যা করিনি। কোনো ভুল বোঝাবুঝি থাকলে আমার কোনো সমস্যা নেই। তবে আমাকে অভিযুক্ত করা ভুল বোঝাবুঝি। এটি সাধারণ বিষয়।'
জামায়াত আমিরের চূড়ান্ত বক্তব্য
জবাবে জামায়াত আমির বলেন, 'আমি শুধু বলেছি, এই ফ্লোরে দাঁড়িয়ে কোনো ডকুমেন্টস বা রেফারেন্স দিলে তা অবশ্যই পরিষ্কার হতে হবে। তাহলে কোনো সমস্যা হয় না। তখন কারো চ্যালেঞ্জ থাকলে করতে পারে।'



