ময়মনসিংহ ডিসি অফিসে বিএনপির দুই নেতার হাতাহাতি, ‘দালাল’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ
ময়মনসিংহ ডিসি অফিসে বিএনপি নেতাদের হাতাহাতি ও মারপিট

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে বিএনপির বহিষ্কৃত এক নেতাকে দেখে ‘দালাল’ মন্তব্য করায় দুই বিএনপি নেতার মধ্যে হাতাহাতি ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভাঙচুর হয়েছে একটি ফুলের টব। উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও লোকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনার বিবরণ

প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেল পাঁচটার দিকে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে কার্যালয় থেকে বের হচ্ছিলেন গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্যসচিব আজিজুল হক। এ সময় জেলা প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করছিলেন কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন। এ সময় আজিজুল হককে ‘বহিষ্কৃত’ ও ‘দালাল’ বলে গালি দেন তোফাজ্জল। এ ঘটনায় পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ‘তুই দালাল’ বলে তোফাজ্জলকে গালি দেন আজিজুল। এ সময় দুজনের মধ্যে হাতাহাতি এবং চড়–থাপ্পড়ের ঘটনা ঘটে।

উত্তেজিত অবস্থায় আজিজুল হক জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বারান্দায় থাকা ফুলের টব দিয়ে তোফাজ্জলকে আঘাতের চেষ্টা করেন। এতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ ডিসির দেহরক্ষী (পুলিশ সদস্য), অফিস সহকারীসহ উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। এতে অফিস সহকারী জনি (৩০) হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বহিষ্কারের পটভূমি

জ্বালানিসংকটের সময় গৌরীপুরের কলতাপাড়ায় থাকায় বিএনপি নেতা আজিজুল হকের মালিকানাধীন জ্বালানি তেল মজুত ও বিক্রির হিসাবে প্রায় ৫০ হাজার লিটার জ্বালানি তেলের গরমিল পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর জের ধরে ৮ এপ্রিল দল থেকে বহিষ্কার করা হয় আজিজুল হককে।

আজিজুল হকের বক্তব্য

আজিজুল হক বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে বের হওয়ার সময় আমাকে দেখে দালাল বলে মন্তব্য করতে থাকে তোফাজ্জল। এর প্রতিবাদ করলে আক্রমণ করে বসে। এ ধরনের কাজে আমি হতবাক হয়েছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তোফাজ্জল হোসেনের বক্তব্য

আজিজুলের অভিযোগের বিষয়ে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বহিষ্কৃত ও বিতর্কিত আজিজুলকে দেখেই আমার রাগ উঠে যায়। তখন তাকে দেখে বলি বহিষ্কৃত লোক কেন এখানে তদবির করতে আসে। এ সময় আমার বাবাকে তুলে গালি দেওয়ায় আমি তাকে ছেড়ে দিইনি। দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়।’

জেলা প্রশাসকের মন্তব্য

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘একজনকে দেখে অন্যজন স্লেজিং করাকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটে যায়। প্রথমে ভেবেছিলাম তাঁরা নিজেদের মধ্যে মজা করছে, কিন্তু পরে দেখা যায় তাঁরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে দুজনকেই সরিয়ে দেওয়া হয়।’