মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির অধীনে থাকা সাতটি উপজেলা ও দুটি পৌর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দলকে নতুনভাবে সাজাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির বর্ধিত সভায় এই কমিটিগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা কৃষকদলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দলের উপজেলা ও পৌর কমিটিগুলোর মেয়াদ দীর্ঘদিন হওয়ায় সাংগঠনিক দুর্বলতা ও স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। এছাড়া কয়েকজন নেতা মৃত্যুবরণ করেছেন। এসব কারণে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিলুপ্ত কমিটির তালিকা
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ জেলার অধীনে বিএনপির সাতটি উপজেলা শাখা হলো সদর, সাটুরিয়া, সিংগাইর, হরিরামপুর, শিবালয়, দৌলতপুর ও ঘিওর। এছাড়া মানিকগঞ্জ পৌর ও সিংগাইর পৌর শাখা রয়েছে। বিলুপ্ত কমিটিগুলোর বেশিরভাগই ২০২১ সালে বা তার আগে গঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে নতুন নেতৃত্ব না আসায় অনেক জায়গায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়।
সভার বিবরণ
শুক্রবার বিকাল ৪টায় জেলা সদরের গিলন্ড এলাকায় মুন্নু সিটিতে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বর্ধিত সভা শুরু হয়। টানা প্রায় ছয় ঘণ্টার এই সভা চলে রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক নম্বর সদস্য ও মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির। কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পরিকল্পনা
সভা সূত্র জানায়, বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব তুলে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সক্রিয় কর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে দলকে আরও সুসংগঠিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতারা বলছেন, বিএনপিকে আরও গতিশীল, সক্রিয় ও তৃণমূলভিত্তিক করতে এই সাংগঠনিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পূর্ববর্তী কমিটি গঠন
দলীয় সূত্র মতে, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বিএনপি মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাত সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। পরে প্রায় চার মাস পর আংশিক আহ্বায়ক কমিটিকে সম্প্রসারণ করে ৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটি গঠনের পর এটিই জেলা বিএনপির প্রথম বড় সাংগঠনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
গোলাম কিবরিয়া সাঈদ বলেন, এখন পরবর্তী কাজ হচ্ছে জেলার অন্তর্গত উপজেলা ও পৌরসভার নয়টি ইউনিটের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা। এরপর তারা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করবে। জেলা বিএনপির বর্ধিত সভায় আগামী এক মাসের মধ্যে উপজেলা ও পৌর কমিটিগুলো গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন পর জেলা বিএনপির এই সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস তৃণমূল রাজনীতিতে নতুন গতি আনবে এবং দলকে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য আরও প্রস্তুত করবে।



