চাঁদাবাজির খবর ফেসবুকে শেয়ার করায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কুপিয়ে জখম
চাঁদাবাজির খবর ফেসবুকে শেয়ার করায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কুপিয়ে জখম

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বাস ও পরিবহনে চাঁদাবাজির ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করার পর সাইদুর রহমান ওরফে মিঠু শিকদার (৪২) নামের স্বেথাসেবক দলের এক নেতাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অধীনে কাপুড়িয়া সদরদি এলাকায় সাইদুর রহমানের ওপর দুই দফায় হামলা হয়। তিনি বর্তমানে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

আহতের অবস্থা

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের বলেন, সাইদুর রহমানের মাথা, পিঠ ও ডান পায়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। এর মধ্যে মাথার আঘাত গুরুতর। অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আহত সাইদুর রহমান ভাঙ্গা পৌরসভার কাপুড়িয়া সদরদি এলাকার শাহজাহান শিকদারের ছেলে। তিনি ভাঙ্গা উপজেলা স্বেথাসেবক দলের আহ্বায়ক। এর আগে তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ

আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে আহত সাইদুর রহমানের ছোট ভাই রাজু শিকদার অভিযোগ করেন, 'সোহান ও শোয়েব চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তারা ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে বিভিন্ন কাউন্টারে চাঁদাবাজিসহ প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। ১২ মে তাদের পুলিশ ধরে নিয়ে যায় এবং পরে বিএনপির সেক্রেটারি আইয়ূব মোল্লা গিয়ে ছাড়িয়ে আনেন। এগুলো নিয়ে নিউজ হয় এবং আমার ভাই সেই নিউজগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেছিল। এটাই ছিল আমার ভাইয়ের অপরাধ। যে কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহান ও শোয়েবের নেতৃত্বে আমার ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।'

রাজু শিকদার আরও বলেন, 'হামলাকারীরা সন্ধ্যায় প্রথমে আমার ভাইকে লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। তখন বারবার পুলিশের সহযোগিতা চাইলেও পাইনি। রাত ৯টার দিকে ভাঙ্গা হাসপাতালে নেওয়ার সময় আবারও হামলা চালিয়ে চাকু দিয়ে কুপিয়ে জখম করে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা

চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক হওয়া সোহান মুন্সি (২৮) কাপুড়িয়া সদরদি এলাকার শাহী মুন্সির ছেলে। আর শোয়েব মোল্লা (৩০) হোগলাডাঙ্গী সদরদি এলাকার লিয়াকত মোল্লার ছেলে। সোহান ও শোয়েব পলাতক থাকায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব মোল্লা বলেন, 'ঘটনাটি আসলেই ন্যক্কারজনক। হামলাকারীরা কাজটি ঠিক করেনি। আমি ওসিকে ফোন দিয়ে বলেছি, আইনগত ব্যবস্থা নিতে। অন্যায়ের সঙ্গে আমি নেই।'

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, এখনো থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্বের ঘটনা

১২ মে বিকেলে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের অদূরে রবিন নামে সার্বিক পরিবহনের এক চেকারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে সোহান ও শোয়েবের বিরুদ্ধে। পরে চাঁদাবাজির অভিযোগে এই দুজনকে থানায় নেওয়া হয়। রাতেই থানায় গিয়ে তাঁদের ছাড়িয়ে আনেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব মোল্লা। ওসির কক্ষের ওই সময়ের ঘটনাবলির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।