নীলফামারীর ডিমলা ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টায় পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২.০১ সেন্টিমিটার, যেখানে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
পানি কমার কারণ ও বর্তমান অবস্থা
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম ও পানি শাখার উপসহকারী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, উজানে পানি বাড়লে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে, সকাল ৯টায় ১০ সেন্টিমিটার নিচে এবং দুপুর ১২টায় ১৪ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। তবে বিকাল ৩টায় তা বেড়ে বিপদসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বুধবার সকাল থেকে পানি আবার কমতে শুরু করে এবং দুপুর ১২টায় বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও দুর্ভোগ
তিস্তার বন্যায় নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখাড়বাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় চর গ্রামে বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। এছাড়া লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা ও কালিগঞ্জ উপজেলার নদী বেষ্টিত চর ও চরের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। বাসিন্দারা মানবেতর দিন পার করছেন এবং অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে উঁচু এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন।
ফসলি জমি ও বীজতলার ক্ষতি
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, এই ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় চরগ্রাম ঝাড়সিংশ্বরসহ অন্যান্য চর গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হওয়ায় ফসলি জমি ও ধানের বীজতলা তলিয়ে গেছে। জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি, গোপালঝাড় ও আলসিয়া পাড়ার প্রায় শতাধিক পরিবার বন্যার পানিতে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি কমতে শুরু করেছে।
বন্যা মোকাবিলায় পাউবোর প্রস্তুতি
ডালিয়া ডিভিশনের উপসহকারী প্রকৌশলী (পানি শাখা) তহিদুল ইসলাম বলেন, উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ইতিমধ্যেই নিম্নাঞ্চলসহ চরগ্রামগুলো তলিয়ে গেছে। তবে বর্তমানে ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, বন্যার পানি সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে এবং তারা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পানি কমেছে এবং বন্যা আতঙ্ক তেমন নেই।



