বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার (১৪ জুন) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হলেও শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের কোনো উদ্যোগ নেই। তিনি বলেন, 'যেসব শ্রমিক মাসের শেষ ১৫ দিন কীভাবে চলবে তা জানেন না, তাদের জন্য তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।'
বাজেটে শ্রমিকদের প্রতি অবহেলা
সাইফুল হক বাজেট প্রসঙ্গে বলেন, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে সরকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে, তবে শ্রমজীবী মানুষ ও শ্রমিকদের জন্য প্রত্যাশিত বরাদ্দ রাখা হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ থাকবে, কিন্তু তা দেখা যায়নি।
কৃষি ও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ
কৃষি খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বীজ ও কীটনাশকে শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে কিনা, সে বিষয়ে বাজেটে আশাব্যঞ্জক কিছু দেখা যায়নি। বৈদেশিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওপর এক ধরনের হুকুমনামা হিসেবে অসম বাণিজ্য চুক্তি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা বন্ধ এবং অসম অনলাইন বাণিজ্য চুক্তি সংসদে আলোচনার মাধ্যমে তা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে বলেন।
রাজনৈতিক সংস্কার ও ভারত প্রসঙ্গ
রাজনৈতিক সংস্কারের প্রসঙ্গে সাইফুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকার আশাব্যঞ্জক পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। রাজপথের শরিক ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ দেখা যাচ্ছে না। ভারতের নতুন হাইকমিশনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু কথায় নয়, সত্যিকার বন্ধুত্বের পরিচয় দিতে হলে ভারতকে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সীমান্তে পুশইন বন্ধের ঘোষণা দিতে হবে।
অন্যান্য বক্তব্য
সমাবেশে দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, বৈষম্য ও অনিরাপত্তার কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা এখনো নিরাপদ নয়। ধর্ষণ, হত্যা ও সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অরবিন্দু বেপারী বিন্দু বলেন, নতুন সরকারকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং শিল্প-কারখানা টিকিয়ে রেখে বেকারত্ব দূর করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশের অন্যান্য কার্যক্রম
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান। সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগ্রামে শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। পরে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল নিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্দেশে যাত্রা করে নেতাকর্মীরা। কার্যালয়ে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়।



