আব্দুল কাদেরের স্পষ্ট ভাষ্য: গতানুগতিক পদ-পদবির জন্য রাজনীতিতে যাওয়ার কোনো মানে হয় না
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের রাজনৈতিক পদ-পদবির প্রতি তার কোনো উচ্চাভিলাষ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কেবল গতানুগতিক পদ-পদবি ও ক্ষমতাসীন হওয়ার জন্য রাজনীতিতে যাওয়ার কোনো মানে হয় না। রোববার (১৯ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মনের তৃপ্তির জন্য রাজনীতি
আব্দুল কাদের তার স্ট্যাটাসে বলেন, "আমি সবসময় এক্টিভিজম কিংবা রাজনীতিটা মনের তৃপ্তির জন্য করেছি। আসপাশের এতো এতো অন্যায়-অবিচার আর হাহাকারে বিষিয়ে ওঠা মনকে তৃপ্ত করতেই এই পথে আসা।"
রাজনীতি করতে গিয়ে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এতেকরে হামলা-মামলা, জেল-জুলুমের মতো নানান প্রতিবন্ধকতা যেমন ছিল, তেমনি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের হাল ধরার জন্য ছিল পিছুটান। কিন্তু কোনোকিছুকে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেইনি। পরিবারের প্রতি অন্যায় করতেছি জেনেও না জানার ভান করে সামনে এগিয়ে গেছি।"
পদ-পদবির প্রতি উচ্চাভিলাষ নেই
পদ-পদবির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আব্দুল কাদের স্পষ্ট জানান, "আমার সহযোদ্ধারা জানেন, রাজনৈতিক পদ পদবির ক্ষেত্রে আমার উচ্চাভিলাষী মানসিকতা নাই; তবে পছন্দ মতো জায়গায় কাজ করার ক্ষেত্রে আছে ডেডিকেশন।"
তিনি আরও বলেন, "যতবড় পদ-পদবি কিংবা এম্পি-মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকুক না কেন; আমার মন থেকে না আসলে, মতের সাথে না মিললে শুধু গতানুগতিক রাজনীতি করার জন্য সেখানে আমি যাই না।"
সিস্টেম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা
সিস্টেম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, "আমি জানি, এইভাবে হয় না; পরিবর্তনের জন্য সিস্টেমের মধ্যে ঢুকে থাকতে হয়, চেষ্টা করে যেতে হয়, রেসে থাকতে হয়। কারণ এ ধরনের মানুষের সংখ্যা খুবই নগণ্য। কিন্তু হাল ধরার জন্য তো একটা ন্যূনতম পরিবেশ-পরিস্থিতি বিরাজমান থাকা লাগে, সেটা না থাকলে তো যেয়ে কোনো লাভ নাই।"
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "কেবল গতানুগতিক পদ-পদবি, ক্ষমতাসীন হওয়ার জন্য তো যাওয়ারও কোনো মানে হয় না। আর হারায়ে যাওয়ার বা হারানোর তো কিছু নাই।"
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আব্দুল কাদের জানান, "ছোট্ট এ রাজনৈতিক জীবনে যা পেয়েছি, এর চেয়ে বেশি কিছু প্রয়োজন পড়ে? তবে অভ্যুত্থান ঘটানোর পরে পরবর্তী পরিস্থিতিতে নতুন করে সাজানোর দায় থাকে, সেটা ভিন্ন কথা। সেক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা তো চলমান থাকবেই, বৃহৎ পরিসরেও হয়তো হতে পারে।"
নেতাদের নতুন দলে যোগদানের খবর
উল্লেখ্য, একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ ও মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিচ্ছেন। রোববার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন দলে রিফাত রশিদকে 'জাতীয় যুবশক্তি'র মুখ্য সংগঠকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যত রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে।



