জ্বালানি সংকটের মধ্যেই অর্ধশতাধিক গাড়ি নিয়ে শোডাউন, ছাত্রদল নেতার পদচ্যুতি
দেশে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যেই নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় এক বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে। এখানে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা জানাতে অর্ধশতাধিক গাড়ির বিশাল শোভাযাত্রা বা শোডাউন করেছেন স্থানীয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রামাণিক। এই ঘটনায় তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হওয়ার পর অবশেষে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পদচ্যুতি
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নাটোর জেলা শাখার অধীনস্থ গুরুদাসপুর উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রামাণিককে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, রোববার বিকালে মাসুদ রানা প্রামাণিক প্রায় ৫০টিরও বেশি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস নিয়ে একটি বড় আকারের মোটর শোভাযাত্রা বা শোডাউনের আয়োজন করেন। এই শোডাউনের উদ্দেশ্য ছিল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তার প্রার্থিতার বিষয়টি প্রকাশ্যে জানানো।
সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা
শোডাউনের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে মাসুদ রানা প্রামাণিককে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের ঝড় ওঠে। ব্যবহারকারীরা এই ঘটনাকে দেশের জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত অসংবেদনশীল ও বেমানান বলে উল্লেখ করেন। দলীয় নেতৃবৃন্দও মন্তব্য করেন যে, এই ঘটনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
এমনকি, শোডাউনের ব্যয়, মাসুদ রানা প্রামাণিকের পারিবারিক আয়ের উৎস, এবং তার বাবা বা পরিবারের সদস্যদের পেশা নিয়েও নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা উপজেলাব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পর্যায়ে এই বিষয়টি এখন টক অব দা টাউনে পরিণত হয়েছে বলে জানা গেছে।
নেতার ব্যাখ্যা ও প্রতিক্রিয়া
সমালোচনার জবাবে মাসুদ রানা প্রামাণিক ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেন, শোডাউনে ব্যবহৃত গাড়িগুলো ছিল সিএনজি ও এলপিজি চালিত, এবং সেগুলো 'রেন্ট-এ-কার' থেকে ভাড়া করা হয়েছিল। তার মতে, অকটেন বা পেট্রোল চালিত কোনো গাড়ি ওই বহরে ছিল না।
তিনি আরও বলেন, তার জনপ্রিয়তা এবং এত বড় শোভাযাত্রা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে তার বিরুদ্ধে সমালোচনা করছেন। তবে, তার এই ব্যাখ্যা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি, যার ফলশ্রুতিতে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাটি গুরুদাসপুর উপজেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, এবং জ্বালানি সংকটের মতো জাতীয় ইস্যুর প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক নেতাদের আচরণ ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় পর্যায়ে ছাত্রদলের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও নেতৃত্বে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখন দেখার বিষয়।



