কুষ্টিয়ায় পীর দাবিকারী হত্যাকাণ্ড: এবি পার্টির তীব্র নিন্দা ও সরকারের জবাবদিহির দাবি
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক পীর দাবিকারী ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা এবং তার দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। শনিবার (১১ এপ্রিল) এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে এই নিন্দা প্রকাশ করেন।
অভিযোগের জবাব সহিংসতায় নয়: এবি পার্টির অবস্থান
বিবৃতিতে নেতারা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কোনও অভিযোগ বা মতভিন্নতার জবাব কখনোই দলবদ্ধ সন্ত্রাস, সহিংসতা কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মাধ্যমে হতে পারে না।” পীর দাবিদার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে কটাক্ষের অভিযোগ থাকলেও, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পরিস্থিতিকে ভয়াবহ রূপ দিয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
এই দুই নেতা আরও বলেন, “এ ধরনের বর্বরতা শুধু মানবিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে না, বরং রাষ্ট্রের আইনের শাসন ও বিচারব্যবস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।” ধর্মীয় অনুভূতিকে উসকে দিয়ে সাধারণ মানুষকে সংঘবদ্ধ সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়া একটি গভীর উদ্বেগজনক প্রবণতা, যা সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মন্তব্য করেন।
সরকারের দায়িত্বহীনতা ও জবাবদিহির দাবি
তারা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনও ভিডিওর ভিত্তিতে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া একটি গুরুতর অপরাধ।” এ ধরনের অপরাধ দমনে সরকারের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে এবি পার্টির নেতারা অভিযোগ তোলেন।
এবি পার্টির নেতারা জোর দিয়ে বলেন, “দলবদ্ধ সন্ত্রাস প্রতিরোধে সরকারের কঠোর ও কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাকে তার মূল দায়িত্ব, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, আরও সক্রিয়ভাবে মনোনিবেশ করতে হবে।”
সামাজিক ঐক্য ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান
বিবৃতিতে তারা সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান, দলবদ্ধ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে। তাদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি স্থানীয় ঘটনা নয়, বরং এটি সমগ্র সমাজের জন্য একটি হুঁশিয়ারি সংকেত।
এবি পার্টির নেতারা উল্লেখ করেন যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া কোনো সমাজই স্থিতিশীল ও উন্নত হতে পারে না। তারা সরকারকে এই ঘটনার তদন্তে দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়ার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ করেন।



