তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে সংবর্ধনা, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে হলি রোজারী চার্চ ক্যাম্পাসের মাদার তেরেসা ভবনে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয়েছে। গৌরনদী খ্রিষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড এই আয়োজনের দায়িত্বে ছিল।
ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গে বিভাজন করবে না সরকার
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সরকার ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের মধ্যে কোনো ধরনের বিভাজন সৃষ্টি করতে দেবে না। তিনি বলেন, "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই মূলনীতির আলোকেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে চায়।"
তিনি আরও যোগ করেন, অতীতে যারা ধর্মের নামে বা বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে রাষ্ট্র ও সমাজ দখল করতে চেয়েছে, তাদের মাধ্যমে গণতন্ত্রের চর্চা কখনোই সম্ভব হয়নি। "পৃথিবীর যেখানেই ধর্মের নামে শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে, সেখানেই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে," বলেছেন মন্ত্রী।
নাগরিক অধিকারের সমতা ও সুরক্ষা
জহির উদ্দিন স্বপন তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, "কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে খ্রিষ্টান বা কে পাহাড়ি—এই পরিচয়ে কাউকে ছোট বা বড় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার সমান এবং আমাদের সরকার সেই অধিকার সুরক্ষা ও বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার উদাহরণ টেনে বলেন, এই অঞ্চলে হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায় দীর্ঘকাল ধরে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে। মাঝেমধ্যে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বিভাজন তৈরির অপচেষ্টা চালালেও সচেতন জনগণের কারণে তারা সফল হতে পারেনি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
সংবর্ধনা সভাটি আহ্বায়ক সিলভাস্টার সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন:
- তেজগাঁও খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি স্বপন হালদার
- সংগঠক ফ্রান্সিস ঢাকি
- সাবেক ছাত্রনেতা মহিউদ্দিন বাদশা
- আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাসেন্ট রায়
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শেষে আরও বলেন, যারা মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে পর্দার আড়ালে ভিন্ন রাজনীতি করে, জনগণ তাদেরকে ইতিমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের লক্ষ্য হলো সকল নাগরিকের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।



