জামায়াত আমিরের বিদেশি ঋণ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সতর্কবার্তা
জামায়াত আমিরের বিদেশি ঋণ ও জ্বালানি সংকট সতর্কতা

বিদেশি ঋণে জাতির স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব নয়: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, বিদেশি ঋণ এবং আর্থিক সহায়তা এই জাতিকে কখনোই কোমর সোজা করে দাঁড়াতে সাহায্য করবে না। তিনি শনিবার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানি সংকটের প্রভাব উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান

জামায়াতের আমির তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, সম্প্রতি অতীত থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, পাপ তার বাপকেও ছাড়ে না এবং ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে দেয়, যার ফলে সমাজের প্রকৃত অবস্থা দেখা যায় না। ডা. শফিকুর রহমান সমাজকে ট্রান্সপারেন্সি গ্লাস দিয়ে দেখতে এবং মানুষের হাহাকার বোঝার চেষ্টা করার আহ্বান জানান।

কৃষির গুরুত্ব ও জ্বালানি সংকট

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে এই কথাটি যেন আমরা ভুলে না যাই। সমাজে যার যেখানে গুরুত্ব পাওয়া উচিত, তাকে ততটুকুই দিতে হবে। তিনি বলেন, কৃষি আমাদের প্রধান, কৃষি আমাদের দ্বিতীয়, কৃষি আমাদের তৃতীয়। জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি ছাড়া আমাদের কোনো চাকাই চলবে না, সব অচল হয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, ড. মিজান সাহেব বলেছেন জ্বালানির একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হয়, কিন্তু আমাদের নিজেদের সক্ষমতা রয়েছে, বিশেষ করে পেট্রোল এবং অকটেনের ক্ষেত্রে শতকরা ৫০ ভাগ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বদেশী সম্পদ উত্তোলনে উদ্যোগের অভাব

জামায়াতের আমির বলেন, আল্লাহ আমাদের এখানে অফুরন্ত সম্পদ রেখেছেন, কিন্তু আমরা সেসব তুলে আনতে পারছি না। আমাদের এক্সপার্ট নেই এবং আমাদের সম্পদ যেন আমরাই তোলার ব্যবস্থা করতে পারি, তারও কোনো উদ্যোগ নেই। তিনি আরও বলেন, দেখিয়েছেন জ্বালানি মজুদ আছে, কিন্তু সাইনবোর্ডে লেখা জ্বালানি নেই, তেল নেই, পরে আবার ধরা পড়ছে। এদিকে জাতিসংঘ থেকে বলা হচ্ছে, যদিও যুদ্ধ থামে, তার প্রভাব কয়েক মাস চলবে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা ও নীতির সংশোধন

ডা. শফিকুর রহমান সংসদে গত সরকারের কিছু অধ্যাদেশ সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, বিশেষ করে স্বাধীন দুদক কমিশন গঠন করা। তিনি বলেন, মতলব হচ্ছে দেশ চলবে আগের কায়দায়। জীবন গেল, পঙ্গু হলো, ক্ষতি হলো দেশের, মায়ের বুক খালি হলো, বহু বোন তার স্বামী হারালো, বাচ্চারা এতিম হলো— এর জবাব কে দেবে? তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, রাজনীতিবিদদেরই এর জবাব দিতে হবে। সকল নীতির নিয়ন্ত্রণ রাজনীতির হাতে এবং রাজনীতি যদি ঠিক থাকে, দেশের সব নীতি ঠিক থাকবে।

আলোচনা সভার অন্যান্য অংশগ্রহণকারী

এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এএফবির সভাপতি কৃষিবিদ ড. এটিএম মাহবুব-ই ইলাহী (তাওহীদ)। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন এএফবির মহাসচিব কৃষিবিদ শেখ মুহাম্মদ মাসউদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।