সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী বাছাইয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে বিএনপি
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আন্দোলন ও সংগ্রামে যাদের ভূমিকা রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মনোনয়ন ফর্ম বিক্রি ও প্রক্রিয়া
শনিবার (১১ এপ্রিল) বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফর্ম বিক্রির দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রিজভী। তিনি জানান, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রথম দিনে পাঁচ শতাধিক ফর্ম বিক্রি হয়েছে এবং আগ্রহীরা আজও সংগ্রহ করতে পারবেন। জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১২ এপ্রিল।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রতিটি মনোনয়ন ফরমের মূল্য ধরা হয়েছে ২ হাজার টাকা। জমা দেওয়ার সময় জামানত হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে।
গণতান্ত্রিক রীতিনীতি চর্চার গুরুত্ব
রিজভী বলেন, ‘‘দীর্ঘ ১৬ বছর পর অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি চর্চার সুযোগ পাওয়া গেছে, তা কাজে লাগাতে হবে। আমরা ক্ষমতায় থাকায় সব ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অবলম্বন করার চেষ্টা করছি।’’ তিনি আরও যোগ করেন, জনগণের কাছে জবাবদিহিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিশ্বাস করেন যে বর্তমান সংসদের মতোই আগামীতে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি শাখায় নির্বাচিত প্রতিনিধি পাওয়া যাবে।
মানুষের প্রত্যাশা ও সরকারের দায়িত্ব
তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। কারণ আমাদের দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর একটি ভয়ানক ও দুর্বিষহ পরিস্থিতি অতিক্রম করতে হয়েছে। তাই সে অনুযায়ীই আমরা সুস্থ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই।’’
নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি
নির্বাচন কমিশনের বেধে দেওয়া সময় অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।
সংরক্ষিত আসনের বণ্টন
জাতীয় সংসদের ৩৫০ আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৫০টি। এর মধ্যে বিএনপির জন্য ৩৬টি এবং জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য একটি আসন বরাদ্দ রাখা হয়েছে।



