গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
পদত্যাগের কারণ ও নতুন ভারপ্রাপ্ত নেতা
জোনায়েদ সাকি বলেন, "রাজনৈতিক দল ও সরকারকে আলাদা করার জন্য দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছেড়েছি।" তাঁর পদত্যাগের পর দলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু।
সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি ছাড়াও দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু, মনির উদ্দীন পাপ্পু, ফিরোজ আহমেদ, তাসলিমা আখতার, হাসান মারুফ রুমীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই জাতীয় সনদ ও দলীয় ইতিহাস
জুলাই জাতীয় সনদ ইস্যুতে জোনায়েদ সাকি বলেন, "জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে সেটা নিয়ে বিতর্ক চলমান। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামত প্রাধান্য পাবে।"
গণসংহতি আন্দোলন ২৯ আগস্ট ২০০২ সালে জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার আহ্বান নিয়ে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ আইনি ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায় দলটি।
গত বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকার সাভারে অনুষ্ঠিত দলের ৫ম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হন। ওই সম্মেলনে ৫৫ সদস্যের নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।
রাজনৈতিক পটভূমি ও সরকারি দায়িত্ব
জোনায়েদ সাকি চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের শরিক হিসেবে দলের প্রতীক মাথাল নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারে তাঁকে প্রথমে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে শুধু পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রাখা হয়।
এই পদত্যাগের মাধ্যমে জোনায়েদ সাকি দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও সরকারি দায়িত্বে রয়েছেন, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।



