ছাত্রশক্তির মানববন্ধনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের তীব্র নিন্দা
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারে ছাত্রশক্তির প্রতিবাদ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ছাত্রশক্তির তীব্র প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মানববন্ধনে অ্যাকটিভিস্ট এ এম হাসান নাসিমের মুক্তি দাবি করে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা বক্তব্য রাখেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের তীব্র সমালোচনা

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক খান তালাত মাহমুদ। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ ব্যবহার করে শেখ হাসিনার সরকার ফ্যাসিজম কায়েম করেছিল এবং জনগণের কণ্ঠ রোধ করেছিল। বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সেই একই আইন ব্যবহার করে জনগণের বাক্‌স্বাধীনতা হরণ করছে। ফলে নিপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে এ দেশের মানুষকে।

হাসান নাসিমের মুক্তির জোরালো দাবি

খান তালাত মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন, হাসান নাসিমকে বর্তমান সরকার অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, বিষয়টা নিয়ে জজকোর্টে কথা হয়েছে। তারা জামিন মঞ্জুর করতে টালবাহানা করছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসান নাসিমকে মুক্ত করে দেন। বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, হাসিনা হওয়ার যেই মিশনে আপনারা নেমেছেন, সেই মিশন ছাড়াও এ দেশের মানুষের জন্য অনেক কাজ রয়েছে। আপনারা দয়া করে সংসদে বসে সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ করেন এবং সেই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছাত্রশক্তির সভাপতির বক্তব্য

মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, গত পরশু হাসান নাসিমের জামিন শুনানির কথা ছিল। আটকে দেওয়া হয়েছে। আজকে কিছুক্ষণ পরে হাসান নাসিমের জামিন শুনানি হবে। আমরা স্পষ্টভাবে দাবি করছি, তাঁকে আর আটকে রাখা যাবে না। আজকের শুনানিতে জামিন দিয়ে সসম্মানে মুক্তি দিতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, শুধু কার্টুন শেয়ার দেওয়ার জন্য হাসান নাসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, বরং হাসান নাসিমের কণ্ঠকে রোধ করার জন্য এবং যেসব সত্য কথা তিনি বলতেন, সেসব সত্য কথা বন্ধ করার জন্যই তাঁকে জেলে পুরে রাখা হয়েছে।

আন্দোলনের হুমকি

জাহিদ আহসান সতর্ক করে দিয়ে বলেন, হাসান নাসিমকে মুক্তি দেওয়া না হলে তীব্র থেকে তীব্রতর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এই মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা ছাড়াও সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর ও বিভিন্ন কলেজের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এই ঘটনাটি রাজনৈতিক বক্তব্যের স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ নিয়ে চলমান বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর এই প্রতিবাদ সরকারের নীতির বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।