নোয়াখালীতে পাল্টাপাল্টি হামলার পর ওসি তৌহিদুল প্রত্যাহার
নোয়াখালীতে পাল্টাপাল্টি হামলায় ওসি প্রত্যাহার

নোয়াখালীতে বিএনপি ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে জেলা পুলিশ সুপার টি এম মোশারফ হোসেনের নির্দেশে তাঁকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

নতুন ওসির দায়িত্ব গ্রহণ

তৌহিদুল ইসলামকে প্রত্যাহারের পর সুধারাম থানার ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ কামরুল ইসলামকে। তিনি ফেনীর সোনাগাজী থানার ওসি ছিলেন এবং গতকাল রাতেই সুধারাম থানায় যোগ দিয়েছেন। মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এর আগেও সুধারাম থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তাঁকে সোনাগাজী থানায় বদলি করা হয়েছিল।

অন্যান্য বদলি

সংঘর্ষের ঘটনার পর সুধারাম থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রীরাম ভট্টাচার্যকেও হাতিয়া থানায় বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে পদায়ন করা হয়েছে হাতিয়া থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) দায়িত্বে থাকা ইদ্রিসুর রহমানকে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিক্ষোভ কিংবা বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে ওসি পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি পুলিশের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ। জেলা পুলিশ সুপার প্রয়োজন অনুযায়ী এক থানা থেকে অন্য থানায় ওসি বদলি করতে পারেন।

সংঘর্ষের ঘটনা

গত শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ। ওই মিছিলের প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে একই বাজারে ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন এবং জামায়াতে ইসলামীর ব্যানারে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর যে যার মতো বাঁধেরহাট বাজার ত্যাগ করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল শেষে খবর পান পাশের কালাদরাপ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহসহ একদল আওয়ামী লীগের সমর্থক ওই ইউনিয়নের পশ্চিম শুল্লাকিয়া গ্রামের দলীয় অফিস ঘরে বসে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওই খবর পাওয়ার পর ছাত্রদলের একদল কর্মী ইউপি চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহর বাড়ির পাশের ওই অফিস ঘরের সামনে যান। এ সময় উভয় পক্ষের কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় শ্রমিক দলের নেতা মো. হৃদয়ের মাথা ফেটে যায়। একই সময় আহত হন চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহও। আহত হন দুই পক্ষের আরও সাত থেকে আটজন কর্মী।

পাল্টাপাল্টি হামলা চলাকালে আওয়ামী লীগের কর্মীরা হামলা চালিয়ে বিএনপি ও ছাত্রদল কর্মীদের কমপক্ষে পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন এবং একটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। একই সময় বিএনপি ও ছাত্রদলের কর্মীরাও স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়ে আগুন দেন। শ্রমিক দলের নেতা আহত হওয়াসহ দলীয় কর্মীদের হামলার শিকার হওয়ার খবরে সন্ধ্যায় ওই এলাকায় যান বিএনপি ও ছাত্রদলের আরও কয়েক শ নেতা-কর্মী ও সমর্থক। এ সময় বিএনপির কর্মীরা চেয়ারম্যান শাহদাত উল্যাহর বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর চালান। পরে সুধারাম থানার পুলিশ ও নোয়াখালী ক্যাম্প থেকে র‌্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।