বাবাকে হানি ট্র্যাপে ফেলে খুনের পরিকল্পনা করেছিল ছেলে, গ্রেফতার ২
বাবাকে হানি ট্র্যাপে ফেলে খুন, ছেলে গ্রেফতার

চট্টগ্রামে জমি বিক্রি ঠেকাতে দুই বছর আগে বাবা মীর মজিবুর রহমান খানকে (৬০) হানি ট্র্যাপে ফেলেছিল ছেলে বেলাল হোসেন। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে প্রথমে অচেতন করা হয়। এরপর গাড়িতে করে নিয়ে যায় নগরীর আউটার রিং রোডে।

সেখানে গাড়ি থামিয়ে ছেলে বেলাল হোসেন ও তার ভায়রা ভাই (স্ত্রীর বড় বোনের স্বামী) আব্দুল জলিল মিলে মজিবুর রহমানের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর লাশটি রাস্তার পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় অভিযোগ ৩৫ বছরের বেলাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খুন হওয়া মজিবুর রহমান চট্টগ্রামের বাঁশখালী জেলার পূর্ব চাম্বল গ্রামের বাসিন্দা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পিবিআইয়ের সংবাদ সম্মেলন

হত্যার রহস্য উদঘাটনের তথ্য জানাতে সোমবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, পেশায় বাবুর্চি মজিবুর রহমান তিনটি বিয়ে করেছিলেন। তার প্রথম স্ত্রীর ঘরে আছে দুই ছেলে বেলাল হোসেন ও আনোয়ার হোসেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে সালমা খানম নামের একটি মেয়ে আছে। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর মজিবুর রহমান তার দ্বিতীয় স্ত্রীর নানার বাড়ি ফটিকছড়িতে থাকতেন।

২০২২ সালে মজিবুর রহমানের দ্বিতীয় স্ত্রী মারা গেলে তিনি বাঁশখালীতে থাকা নিজের কিছু জমি বিক্রি করে দ্বিতীয় ঘরের মেয়ে সালমাকে সেই টাকা দেন। এতে প্রথম ঘরের সন্তান বেলাল ক্ষিপ্ত হয়। এতে বেলালের ধারণা হয়, বাবা তাকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করছে। পরে মজিবুর রহমান নিজের আরও সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নিলে বেলাল হোসেন তার বাবাকে এ কাজ থেকে বিরত রাখতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যার পরিকল্পনা

এসপি এসএম রফিকুল ইসলাম বলেন, বেলাল হোসেনের পরিকল্পনা অনুযায়ী তার পূর্ব পরিচিত এক নারী মজিবুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এর মধ্যে মজিবুর রহমান ২০২৪ সালের ৬ জুন ফটিকছড়ির বাড়ি থেকে নগরীর আন্দরকিল্লা এলাকায় তার মেয়ে সালমা খানমের বাসায় বেড়াতে আসেন।

মেয়ের বাসায় থাকাকালে ৭ জুন মজিবুর রহমান মোবাইলে যোগাযোগ হওয়া নারীর অনুরোধে নগরীর বাকলিয়া থানার আনন্দ সাবান ফ্যাক্টরি এলাকায় তার বাসায় যায়। ওই বাসায় আগে থেকেই বেলাল হোসেনের স্ত্রীর বড় বোনের স্বামী আব্দুল জলিল উপস্থিত ছিলেন। মজিবুর রহমান ওই বাসায় গেলে সেই নারী ও আব্দুল জলিল শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে মজিবুরকে খাওয়ান। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

সেদিন বিকালে আব্দুল জলিল ও বেলাল হোসেন মিলে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মজিবুরকে নগরীর সিআরবি এলাকাতে নিয়ে যান। পরে একটি মাইক্রোবাসে করে সন্ধ্যার দিকে আব্দুল জলিলসহ মজিবুরকে হালিশহর থানার আউটার রিং রোডে নিয়ে যায়। সেখানে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং লাশটি রাস্তার পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

৯ জুন নগরীর হালিশহর থানার আউটার রিং রোড এলাকার জঙ্গল থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলা ও গ্রেফতার

এদিকে বাবার কোনো খোঁজ না পেয়ে মজিবুরের মেয়ে সালমা খানম ওই বছরের ৭ জুলাই কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেন। পরে ওই বছরের ৬ নভেম্বর আদালতে অপহরণের মামলা করেন। পরে পিবিআই এ ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে অনুসন্ধান শুরু করে।

শনিবার বিকালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার মইজ্জ্যারটেক এলাকা থেকে বেলাল হোসেনকে গ্রেফতার করে পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার ঘোড়ামারা এলাকা থেকে আব্দুল জলিলকে গ্রেফতার করা হয়।