ঘটনার শুরু: খালি গায়ে ম্যানেজারের চেয়ার দখল
বুধবার (৭ জুলাই ২০২৬) বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার চৌরঙ্গী বাজার শাখার রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে (রাকাব) এক নাটকীয় ঘটনা ঘটে। এক যুবক হঠাৎ করেই ব্যাংকে ঢুকে সোজা ম্যানেজারের কক্ষে প্রবেশ করেন এবং সম্পূর্ণ খালি গায়ে ম্যানেজারের চেয়ারে বসে পড়েন। এরপর তিনি অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করেন এবং চিৎকার করে নিজেকে ‘এই দেশের সিইও (প্রধান কর্মকর্তা)’ এবং ‘অনেক বড় অফিসার’ দাবি করেন।
ব্যাংক কর্মী ও গ্রাহকদের স্তব্ধ করে দেওয়া ঘটনা
ওই যুবকের এই কাণ্ড দেখে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ উপস্থিত সাধারণ গ্রাহকরা মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যান। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
ইয়াসিন আলীর পরিচয় ও পূর্বাপর
জানা গেছে, ওই যুবকের নাম ইয়াসিন আলী। তিনি ব্যাংকের স্বাভাবিক কাজকর্ম চলাকালীন আকস্মিকভাবে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং শার্টবিহীন অবস্থায় ম্যানেজারের চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে চিৎকার করে বলেন, এই ব্যাংকে তার কোটি কোটি টাকা জমা রয়েছে। সেই টাকা দিয়ে তিনি বাড়ি ঠিক করবেন এবং নতুন মোটরসাইকেল কিনবেন।
নিরাপত্তা রক্ষীদের ব্যর্থতা ও পুলিশের হস্তক্ষেপ
নিরাপত্তা রক্ষীরা তাকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে চেয়ার থেকে নামানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে, তবে পুলিশের আগমনেও ইয়াসিনের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি পুলিশ সদস্যদের সামনেও একই রকম অসংলগ্ন ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে থাকেন।
পুলিশের নিয়ন্ত্রণ ও পরবর্তী ব্যবস্থা
অবশেষে বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পর বিশেষ কৌশলে পুলিশ সদস্যরা তাকে নিয়ন্ত্রণে এনে হেফাজতে নেয়। হরিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) বিষয়টি অবগত করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের হেফাজতে ইয়াসিনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক কর্মকর্তার বক্তব্য
ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার বিপ্লবী রানী রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ইয়াসিনকে এলাকার সবাই চেনে এবং তাকে ভীষণ ভয় পায়। এর আগে সে একজনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। যাকে-তাকে যখন-তখন আক্রমণ করে বসে। এজন্য ভয়ে তাকে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। ধারণা করা হচ্ছে, সে মানসিক বিকারগ্রস্ত। আজ ব্যাংকের অবস্থা বেগতিক দেখে আমরা আতঙ্কিত হয়ে ৯৯৯-এ ফোন দিই। পুলিশ এসে তাকে নিবৃত্ত করে।’
পুলিশের তদন্ত
পুলিশ জানিয়েছে, ওই যুবক আসলে তীব্র মাদকাসক্ত নাকি পুরোপুরি মানসিক অসুস্থ—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



