দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় সৌদি আরবে অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরিয়ে আনা ওমরাহযাত্রী হেদায়েতুল ইসলাম (৭৪) মৃত্যুবরণ করেছেন। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচডিইউতে (হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
ধর্মমন্ত্রীর শোক প্রকাশ
হেদায়েতুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মন্ত্রী বলেন, একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে তার চিকিৎসা ও দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই করা হয়েছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মহান আল্লাহ তাআলা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করবেন।
পরিবারের বক্তব্য
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরার পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুর পর তার মরদেহ নিজ জেলা ফেনীতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন ধর্মমন্ত্রী। সোমবার রাত ৯টায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চিকিৎসকের বিবরণ
এইচডিইউর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আশরাফ হেদায়েতুল ইসলামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও সোমবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি আরও বলেন, রোগীকে সোমবারই ফেনী সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছিল।
ওমরাহযাত্রীর পটভূমি
জানা যায়, ফেনীর বাসিন্দা হেদায়েতুল ইসলাম ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান। সেখানে অবস্থানকালে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘ সময় ধরে কিং ফাহাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি দেশে ফিরতে পারেননি। দীর্ঘ এ সময়ে তিনি আর্থিক ও শারীরিক নানা সংকটের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করেন।
সরকারের উদ্যোগ
বিষয়টি অবগত হওয়ার পর বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেন। সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে চলতি বছরের ১৩ মে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তার চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ধর্মমন্ত্রী নিজে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে হেদায়েতুল ইসলামের খোঁজখবর নেন। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে রোগীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হন এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। পরে পরিবারের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হয়।
পরিবারের কৃতজ্ঞতা
হেদায়েতুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ধর্মমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন বিদেশে অসহায় অবস্থায় থাকা একজন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সরকার ও ধর্মমন্ত্রী মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।



