ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীর পানিতে চুবিয়ে হত্যার মামলায় ঘটনার ৯ দিনের মাথায় অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ জানায়, ১৪ জুন বিকেলে নিজ বাড়ির পাশ থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শিশুটির বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে স্থানীয় লোকজন কংস নদের বাঁকে তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির মরদেহ নদীর তলদেশে পুঁতে রাখা অবস্থায় খুঁজে পান। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। রাতেই মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে গোসল করাতে নেওয়া হয়। তখন শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে ক্ষত দেখা যায়। ওই অবস্থায় দাফনের প্রস্তুতি বন্ধ রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
মামলা ও গ্রেপ্তার
পরদিন ১৫ জুন রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করলেও এলাকার মারুফ মিয়া (১৯), আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (২১) ও মো. সাঈম মিয়াকে (১৯) সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ চার তরুণকে গ্রেপ্তারের পর ধর্ষণ ও হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা পায়। পরে চারজন আসামিকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার আদালতে তোলা হলে আসামিরা ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
অভিযোগপত্র দাখিল
চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় পুলিশ দ্রুত অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আজ চার্জশিট প্রস্তুত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধোবাউড়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম। পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়।
বাবার প্রতিক্রিয়া
মামলার বাদী শিশুটির বাবা বলেন, ‘আমার সন্তানের ওপর নির্যাতন চালিয়ে নৃশংসভাবে হত্যায় পুলিশ দ্রুত আসামি ধরেছে। আদালতে চার্জশিট দিয়েছে। এখন দ্রুত বিচার দেখতে চাই। সব আসামির ফাঁসি চাই।’
পুলিশ সুপারের বক্তব্য
আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ঘটনার এক দিনের মধ্যেই সব আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি এবং তারা আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যেই ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্ট পেয়েছি এবং যাচাই-বাছাই শেষে আজ বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছি। তারা প্রত্যেকের সম্পৃক্ততা যে স্বীকার করেছে এবং তার আলোকে আমরা সাক্ষ্য সংগ্রহ করেছি এবং সেই আলোকে আমরা এই চার্জশিটটা দাখিল করেছি।’ পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘আমরা সব ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করেছি। তার ভিত্তিতে আদালত বিচার করবেন। আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে যেন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।’



