বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ দেশে হামে ৩০০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ না করার প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “একটি মানবিক হাসপাতাল যেখানে ৭০০ বেডের মধ্যে ১৮০টি ফ্রি, প্রতিদিন ২৩টি নরমাল ডেলিভারি হয় এবং রোগী-স্বজনদের বিনামূল্যে খাবার দেওয়া হয়— সেখানে মাত্র ৬টি শিশু মারা যাওয়ার অজুহাতে লাইসেন্স বাতিল করা হলো। অথচ দেশে যখন হামে ৩০০ শিশু মারা গেলো, তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী পদত্যাগের কথা ভাবলেন না কেন? ওই হাসপাতালে ২৪৭ জন বিদেশি শিক্ষার্থী এখন দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা সচিবের দেখা পাচ্ছেন না। এতে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।”
বাজেট নিয়ে তীব্র সমালোচনা
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেটের সাফল্য কেবল সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ানোর ওপর নির্ভর করে না, বরং সাধারণ মানুষের মুখের হাসিতেই বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ধারিত হয়।” তিনি অভিযোগ করেছেন, সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনা শুনলে মনে হয় সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবে বাজারে গিয়ে মানুষ এর কোনও সুফল পায় না।
বাজেট প্রণয়নে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নেই
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমি এলাকায় বাজেটের আগে নাগরিক ভাবনা নামে মতবিনিময় করেছি। সেখানকার মানুষ ও সাংবাদিকরা বলেছেন, সংসদে আপনাদের আলোচনা শুনলে মনে হয় সব সমাধান হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবে বাজারে গেলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সমস্যাগুলো আপনাদের বক্তৃতায় নেই। বাজেটের নীতি নির্ধারণে সাধারণ মানুষ এমনকি সংসদ সদস্যদেরও তেমন কোনও ভূমিকা রাখার সুযোগ দেওয়া হয় না।”
বাজেট উপস্থাপনায় প্রযুক্তির অভাব
বাজেট উপস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “উন্নত বিশ্বে বাজেট উপস্থাপনে ইনফোগ্রাফিক, ভিজ্যুয়াল ড্যাশবোর্ড ও সহজ টেবিল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমাদের এখানে সেই ব্যবস্থাপনা নেই।”
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমেছে
শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শিক্ষায় অগ্রাধিকারের কথা বলা হলেও ৫১১ কোটি টাকার জায়গায় মাত্র ৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমনকি এমপিওভুক্ত ২ লাখ শিক্ষক মে মাসের বেতনও এখন পর্যন্ত পাননি। পরিবার নিয়ে তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ৫ শতাংশ বরাদ্দের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি।”
মেগা প্রজেক্টে দুর্নীতি ও বৈষম্য
মেগা প্রজেক্টের দুর্নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা সিদুরে মেঘ দেখলে ভয় পাই। ১৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু ৪৫ হাজার কোটি টাকায় শেষ হয়। এই মেগা প্রজেক্ট মানেই মেগা দুর্নীতি। দক্ষিণ অঞ্চলের উন্নয়নের কথা বলা হলেও ভাঙ্গা পর্যন্ত রাস্তা সিঙ্গাপুরের মতো মনে হয়, কিন্তু এরপর পটুয়াখালী-কুয়াকাটা পর্যন্ত রাস্তা একেবারে অজপাড়াগাঁয়ের মতো।”
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সংসদ সদস্যদের কুয়াকাটা ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, “সেখানে গিয়ে রাস্তার অবস্থা দেখে আসুন। মেগা প্রজেক্টের অর্থ তখনই সার্থক হবে যখন তৃণমূলের মানুষ এর সুফল পাবে।”



