সাইবার স্পেসে নারী সুরক্ষা ও আইনের অপব্যবহার রোধের দাবি সংসদে
সাইবার স্পেসে নারী সুরক্ষা ও আইনের অপব্যবহার রোধের দাবি

জাতীয় সংসদে আজ মঙ্গলবার সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল পাস হয়েছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এ সময় সাইবার স্পেসে নারীদের সুরক্ষা এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বিল পাস ও মূল পরিবর্তন

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিলটি সংসদে তোলেন। জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব নিষ্পত্তি শেষে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। সাইবার সুরক্ষা আইনের ২০ ধারা বিলুপ্ত করতেই এই সংশোধনী বিল আনা হয়। ওই ধারায় সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার অপরাধ ও দণ্ডের বিধান ছিল। জুয়া ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন করার কারণে এই ধারা বাদ দেওয়া হচ্ছে। নতুন আইনে অনলাইন জুয়ার বিস্তারিত সংজ্ঞা ও দণ্ড রাখা হয়েছে।

নারী সুরক্ষা ও সাইবার বুলিং

বিলের আলোচনায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, 'আমরা যাঁরা রাজনীতি করি, পাবলিক ফিগার, নন ফেস তাঁদের প্রতিনিয়ত সাইবার নিপীড়নের শিকার হচ্ছি, সাইবার বুলিংসহ নানা রকমের সাইবার অপরাধের শিকার হতে হয়।' তিনি তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতি ও এআইয়ের অপব্যবহার এবং অপতথ্য ছড়ানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, বিশেষ করে নারীরা, যাঁরা রাজনীতি বা মিডিয়াজগতের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের জন্য সাইবার স্পেস প্রতিদিনই কঠিন হয়ে যায়। তিনি সরকারের কাছে নারীদের জন্য সাইবার স্পেস নিরাপদ রাখতে মনোযোগী হওয়ার আশা প্রকাশ করেন। রুমিন ফারহানা আরও বলেন, 'নারীরা যে দলেরই কর্মীই হোক, বিরোধী মতের কর্মীদের নিপীড়ন আপাতত আনন্দদায়ক হতে পারে, কিন্তু সেটা বুমেরাং হবে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনের অপব্যবহার উদ্বেগ

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, অতীতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে সাইবার আইন দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদেরও হয়রানি করা হয়েছে। তিনি আইনটি যাতে শিক্ষার্থীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জামায়াতে ইসলামীর আরেক সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম বলেন, সাইবার অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো সুরক্ষিত করা দরকার। তবে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাক্‌স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারও রক্ষা পায়।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, সাইবার অপরাধ, এআইয়ের অপব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানো ও বিভ্রান্তি তৈরির মতো অপরাধ প্রতিরোধে আইন প্রয়োজন। তবে এই আইন যেন বাক্‌স্বাধীনতা খর্ব করার পরিবেশ তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য

বিলের ওপর আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আইনটি সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে নারীর নিরাপত্তার জন্য। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে সবাই শঙ্কিত। আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এখন মূল বিষয়।

সরকারের উদ্যোগ

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে চরিত্রহনন, অপতথ্য, গুজব, মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার বিষয়ে সরকার আলাদা উদ্যোগ নিচ্ছে। এসব বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে, বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই চলছে। এ বিষয়ে পরে প্রয়োজনীয় সংশোধনী বা বিল আনা হবে।