আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান ইকবাল মদের লাইসেন্স প্রক্রিয়া ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৫তম দিনে তিনি এই প্রশ্ন তোলেন।
মদপানের লাইসেন্স: আইনগত অস্পষ্টতা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও মদপানের লাইসেন্স ব্যবস্থার সমালোচনা করে এমপি বলেন, 'গাড়ি চালাইতে লাইসেন্স লাগে, মোটরসাইকেল চালাইতেও লাইসেন্স লাগে, এমনকি দোকান চালাইতেও লাইসেন্স লাগে। কিন্তু এখন শুনতেছেন মদ খাইতেও নাকি লাইসেন্স লাগে। এটি কোন দেশের আইন আমার জানা নেই।' তিনি মদের দাম বাড়ানোয় অনেকে 'মাইন্ড' করেছেন উল্লেখ করে রসাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, 'যারা মাইন্ড করেছেন তাদের জন্য যেন লাইসেন্সের ব্যবস্থা করা হয়।' একইসঙ্গে তিনি মদ ও মাদককে এক করে না দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুলিশ অনেক সময় এক বোতল মদ পেলেই সাধারণ মানুষের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করার সুযোগ পায়, যা বন্ধ হওয়া দরকার।
বাজেটের প্রশংসা ও সমালোচনা
মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যেও একটি জনকল্যাণমুখী বাজেট পেশ করার জন্য অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। তিনি উল্লেখ করেন, 'বিগত বছরগুলোতে বাজেট ঘোষণার পরদিনই যেখানে রাজপথে “মানি না, মানব না” বলে মিছিল হতো, এবারই প্রথম কোনও প্রতিবাদ মিছিল দেখা যায়নি।' এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এটি মূলত মেহনতি ও মধ্যবিত্ত মানুষের বাজেট।
তার ভাষ্য, এই বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী, হার্টের রিং, ব্যান্ডেজ এবং কিডনি রোগীদের চিকিৎসার উপকরণের দাম কমানো হয়েছে। জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রায় সবকিছুর দাম কমানো হলেও কেবল একটি আইটেমের দাম বাড়ানো হয়েছে, আর সেটি হলো মদ। মদের দাম বাড়ানোর এই উদ্যোগকে তিনি সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে সাধুবাদ জানান।
বিরোধীদের সমালোচনা ও বাজেট বাস্তবায়নের আহ্বান
বাজেট নিয়ে বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে মুজিবুর রহমান ইকবাল একটি রূপক গল্পের অবতারণা করেন। তিনি বলেন, অনেকে বিরোধী দলে বসে অবাস্তব সমালোচনা করছেন, যা অনেকটা ফিতা দিয়ে মেপে অবাস্তব কুমিরের দৈর্ঘ্য কমানোর গল্পের মতো। অর্থমন্ত্রী যে বিশাল ও সুন্দর বাজেট দিয়েছেন, তা কমানোর কোনও সুযোগ নেই। তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন করা সবার দায়িত্ব। বাজেট বড় না হলে এলাকার রাস্তাঘাট, কালভার্ট, মেডিক্যাল কলেজ কিংবা হাসপাতালের মতো বড় উন্নয়নমূলক কাজের দাবি পূরণ করা সম্ভব হবে না।
অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রামের সাগরপাড়ের মানুষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'তার মন এবং বাজেট—দুই-ই সাগরের মতো বড়।' এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং হাওড় অঞ্চলে রাতে নিরাপদে চলাচলের সুবিধার্থে স্পিডবোট ও পুলিশের টহল গাড়ি বরাদ্দের জন্য তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে পুলিশের বাজেট বাড়ানোর দাবি জানান।



