লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় থানার ওসি শাহীন মিয়া জানিয়েছেন, মাদকের টাকার জন্যই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
ঘটনার বিবরণ ও ওসির বক্তব্য
ওসি শাহীন মিয়া বলেন, প্রায় ৭-৮ বছর ধরে অন্তর মজুমদার মাদকাসক্ত ছিল। সে তার বাড়িতে মাদকের টাকার জন্য বাবা-মাকে মারধর ও বসতঘর ভাঙচুর করত। তার আচরণ ভালো না থাকায় গ্রাম ও পরিবার থেকে বিতাড়িত হয়। ফেনী শহরে এক ফলের দোকানে কাজ করার সময় মালিকের টাকা চুরি করে। এ কারণে তাকে বেঁধে মারধর করলে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে তার বাবা-মা তাকে ছাড়িয়ে আনেন।
ওসি আরও বলেন, অন্তর দুই মাস রায়পুরের ধানহাটা এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে বাসা ভাড়া নিয়ে ছিল। কিন্তু ভাড়া দিতে না পারায় বাড়িওয়ালা তাকে বের করে দেয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে সে ওই ভবনের চতুর্থ তলায় একটি মেয়ে নিয়ে ভাড়া থাকত। তারা উভয়েই নামাজ পড়ত, ঘাতকের মাথায় টুপি থাকত, মেয়েটি মাঝে মাঝে বোরকা পরত; কিন্তু অন্তর মাদকাসক্ত ছিল। ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রির আড়ালে মাদক সেবন করত। এ কারণেই হয়তো মা ও তিন মেয়েকে ধারাল ছেনি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালাতে চেয়েছিল; কিন্তু ক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে তাকে মেরে ফেলে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা
২৫ জুন সকাল ৮টায় বাসায় ঢুকে ছেনি দিয়ে শাহিনুর বেগম (৩৮) ও তার তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২০), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার সিপাকে (৯) কুপিয়ে হত্যা করে অন্তর। এ সময় পাশের এক নারীর কারণে বাইরে থেকে দরজা লাগানো থাকায় ভবনের ছাদ দিয়ে পালাতে চেয়েছিল; কিন্তু স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে তাকে হত্যা করে।
তদন্ত ও মামলা
ওসি শাহীন মিয়া বলেন, মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহত শাহিনুরের ছেলে জিহাদুল ইসলাম শিফাত বাদী হয়ে মামলা করেছেন।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
সভায় উপস্থিত ছিলেন- রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা, হাসপাতালের আরএমও মামুনুর রশীদ পলাশ, কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেডএম নাজমুল ইসলাম মিঠু, সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান ভুঁইয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানী, উপজেলা জামায়াতের আমির নাজমুল হুদা, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তাবারক হোসেন আজাদ, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জিয়াউল কাদের বাবলু প্রমুখ।



