সাংবাদিককে মাদক মামলায় আসামি করার অভিযোগ জাজিরায়
সাংবাদিককে মাদক মামলায় আসামি, হামলার অভিযোগ

শরীয়তপুরের জাজিরায় মাদক কারবারিদের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মামলায় স্থানীয় এক সাংবাদিককে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। একই মামলাকে কেন্দ্র করে পরে ওই সাংবাদিকের ওপর হামলা, মারধর এবং ব্যবহৃত সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

ঘটনার পটভূমি

অভিযোগ অনুযায়ী, গত রমজান মাসে জাজিরা পুরাতন বাজার এলাকায় মাদক কারবারিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক মাস পর এ ঘটনায় জাজিরা থানায় দায়ের করা মামলায় স্থানীয় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি সাংবাদিক ইমরান হোসাইনকে ১২ নম্বর আসামি করা হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার পর তিনি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দেন। তাদের ভাষ্য ছিল, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং তদন্তেও তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকের ওপর হামলা

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিক ইমরান হোসাইনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সভায় সাব-রেজিস্ট্রি ও সেটেলমেন্ট অফিসে দালালচক্র এবং ভুয়া সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারকারীদের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরপরই মামলার বাদী মিলন চৌকিদারের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছিনিয়ে নেওয়া সরঞ্জাম ও আঘাত

অভিযোগে বলা হয়, হামলার সময় তাকে মারধরের পাশাপাশি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, গিম্বল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে মামলার আসামি বলে দাবি করে আরও মারধর করে। এতে তিনি মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাত পান বলে অভিযোগ করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভুয়া সংবাদ ও আইনি পদক্ষেপ

সাংবাদিক ইমরান হোসাইন আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে তাকে এবং জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রকৃতপক্ষে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কারণেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং মামলাটি কেবল অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

পুলিশের অবস্থান

এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলে জানান ভুক্তভোগী। তবে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক মামলা নেওয়া হবে কি না—এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।