দেশের বিভিন্ন কারাগারে কারাবন্দী মায়ের সঙ্গে বর্তমানে কত শিশু রয়েছে, তাদের সংখ্যা, বয়সসহ সার্বিক অবস্থান–সংবলিত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে কারা মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেন।
‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে গত ৮ মে একটি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটিসহ এ বিষয়ে প্রকাশিত অভিমত যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ গত সপ্তাহে রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ফারজানা আক্তার ও হোসনে আরা বেগম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন।
পরে আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, দেশের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত মায়েদের সঙ্গে অবস্থানরত শিশুদের যথাযথ নিরাপত্তা, কল্যাণ ও বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব, সমাজকল্যাণসচিব, কারা মহাপরিদর্শকসহ পাঁচ বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে ‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে ২৯৯ শিশু (২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) রয়েছে মায়েদের সঙ্গে। এসব শিশুর মায়েদের বেশির ভাগ মাদক মামলার আসামি। এর মধ্যে কন্যাশিশু ১৫৩টি আর ছেলেশিশু ১৪৬টি। এই শিশুদের মায়েরা কেউ সাজা খাটছেন, কারও মামলা রয়েছে বিচারের পর্যায়ে।



