সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) ডিগ্রিধারীদের স্বাধীনভাবে রোগী দেখার ও ওষুধ দেওয়ার অনুমতি দিয়ে দেওয়া হাইকোর্টের একটি রায় বাতিল করে দিয়েছে। আদালত রায় দিয়েছেন যে তারা আলাদাভাবে দন্তচিকিৎসক হিসেবে অনুশীলন করতে পারবেন না।
রায়ের বিবরণ
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা সিভিল আপিল মঞ্জুর করে এই রায় দেওয়া হয়।
রায়ের পর দন্তচিকিৎসকদের আইনজীবীরা জানান, ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা আর আলাদাভাবে প্রাইভেট চেম্বার খুলতে, স্বাধীনভাবে রোগী দেখতে বা প্রেসক্রিপশন দিতে পারবেন না। তারা শুধুমাত্র নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনের অধীনে সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারবেন।
আইনজীবীদের বক্তব্য
দন্তচিকিৎসকদের পক্ষে আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, আপিল বিভাগ দন্তচিকিৎসক এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) দায়ের করা সিভিল আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছে। এই রায়ের ফলে ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্টদের স্বাধীন অনুশীলনের অধিকার আর থাকছে না।
বিতর্কের সূত্রপাত
বিতর্কের সূত্রপাত বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেনের দায়ের করা একটি রিট পিটিশন থেকে। তিনি ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট) ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন এবং রোগী দেখা ও ওষুধ দেওয়ার ক্ষমতা চেয়ে আবেদন করেছিলেন।
ওই পিটিশনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি এ কে এম শাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০১৬ সালের ১৩ জুন একটি রায় দেয়। রায়ে বিএমডিসিকে ডিপ্লোমাধারীদের নিবন্ধন প্রদান এবং তাদের রোগী দেখা ও ওষুধ দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
হাইকোর্ট ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্টদের ভূমিকা ও নিবন্ধন সংক্রান্ত ১০টি নির্দেশনাও জারি করেছিল।
আপিল ও চূড়ান্ত রায়
মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল ২০১৭ সালে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সিভিল আপিল দায়ের করে। পরে দন্তচিকিৎসকরাও এই মামলায় পক্ষভুক্ত হন। চূড়ান্ত শুনানির পর আপিল বিভাগ আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দেয়। ফলে ডিপ্লোমা ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্টদের স্বাধীন অনুশীলনের সম্ভাবনা শেষ হলো।



