আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সোমবার বলেছেন, সম্প্রতি দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে আগামী এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে
আমিনুল ইসলাম তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, বেনজীরকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দ্রুত এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, 'আমরা আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে।'
মামলার বিবরণ
প্রধান প্রসিকিউটর জানান, বেনজীর আহমেদ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) টাস্ক ফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে জোরপূর্বক গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম আসামি। তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বর মামলার তদন্ত প্রায় শেষের দিকে, এবং কক্সবাজারের টেকনাফে একরামুল হক হত্যা মামলায় প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রস্তুত করেছে, যা শীঘ্রই দায়ের করা হবে।
অভিযোগ ও প্রমাণ
আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তকারীরা বেনজীরের বিরুদ্ধে অসংখ্য জোরপূর্বক গুমের মামলায় প্রমাণ পেয়েছেন এবং ট্রাইব্যুনালের বাইরেও তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা ইতোমধ্যে তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নথি সরকারের কাছে জমা দিয়েছি। এগুলো ইন্টারপোলে পাঠানো হবে, পাশাপাশি তার প্রত্যর্পণের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছে।'
আইনি প্রক্রিয়া
প্রধান প্রসিকিউটরের মতে, অবশিষ্ট আইনি ও পদ্ধতিগত আনুষ্ঠানিকতা এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে, এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে। তিনি আরও বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। 'আমরা তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ পাওয়ার আশা করছি, এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালিত হবে,' বলেন আমিনুল ইসলাম।



