১৫৯ বছরের পুরোনো জুয়া আইন বাতিল, সংসদে নতুন আইন পাস
১৫৯ বছরের পুরোনো জুয়া আইন বাতিল, সংসদে নতুন আইন পাস

জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি-ভিত্তিক জুয়া রুখতে এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত ১৫৯ বছরের পুরোনো ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আইনে ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং করলে সাত বছরের জেলের পাশাপাশি পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

সংসদে বিল পাসের প্রক্রিয়া

মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করলে সর্বসম্মতভাবে কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের পর বিলটি পাস হয়।

আইনের বিস্তারিত সংজ্ঞা ও সাজা

আইনে জুয়া, জুয়ার স্থান, জুয়ার সামগ্রী, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল জুয়া, প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, টোটালাইজেটর, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, বাজি বা পণ্য, বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয় সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে। অপরাধের প্রকৃতিভেদে ১৪ ধরনের সাজার বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে। অপরাধগুলো ‘আমলযোগ্য’ এবং ‘অজামিনযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনাল বা ভ্রাম্যমাণ আদালতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুরোনো আইনের অকার্যকারিতা

নতুন আইনের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ দেড়শতাধিক বছরের পুরোনো হওয়ায় ডিজিটাল যুগে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সি-ভিত্তিক জুয়া প্রতিরোধে তা অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছিল। অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা বাংলাদেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

নতুন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ

আইনে বলা হয়েছে, জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর, বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ বা চ্যানেল পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া জুয়ার সরঞ্জামাদি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ, জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার এবং স্পনসরশিপের ক্ষেত্রেও কঠোর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

আইনের প্রভাব ও প্রয়োগ

নতুন আইনে অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়া, অনলাইন বেটিং (স্পোর্টস বেটিং, লাইভ বেটিং, ক্যাসিনো বেটিং ইত্যাদি), ক্রিপ্টোকারেন্সি, ঘোস্ট সিম ও ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা ডিজিটাল ওয়ালেটের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এই আইন ডিজিটাল জুয়া ও অর্থপাচার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।” আইনটি পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ জুয়া প্রতিরোধে আধুনিক আইনি কাঠামো তৈরি করল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।