গ্রিন কোজি কটেজ আগুন মামলায় আদালতের প্রতিবেদন গ্রহণ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুনে ৪৬ জনের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন আদালত গ্রহণ করেছেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত রোববার প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বর্তমান অবস্থা ও আসামিদের তালিকা
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জিন্নাত আলী জানিয়েছেন, এই মামলায় মোট ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জন বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং বাকি ১৩ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। আদালত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন এবং আগামী ১৯ মে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন।
তদন্ত প্রক্রিয়া ও প্রতিবেদন দাখিল
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. শাহজালাল মুন্সি গত ২ এপ্রিল আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রায় দুই বছর ধরে চলা তদন্তের পর ভবনের মালিকপক্ষ আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রমজানুল হক নিহাদসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে সংস্থাটি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
ঘটনার পুনর্বিবরণ ও মামলা দায়ের
২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ আগুন লাগে। এই দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে ৩ জন এবং ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে ৪৩ জন মারা যান, যা মোট ৪৬ জনের প্রাণহানির শোকাবহ ঘটনা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ঘটনার পর রাজধানীর রমনা থানায় একটি মামলা করা হয় এবং পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার সিআইডিকে হস্তান্তর করা হয়।
এই মামলার অগ্রগতি নিয়ে আইনি পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আদালতের প্রতিবেদন গ্রহণ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।



