মাইলস্টোন স্কুল দুর্ঘটনা: তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশে সরকারি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টের রুল
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের কাছে অনুলিপি প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আদালত একইসঙ্গে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সরকারি নিষ্ক্রিয়তার কারণও জানতে চেয়েছেন।
রিট আবেদনের শুনানি ও রুল জারি
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার (৮ মার্চ) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব রুল জারি করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মু. আমিরুল হক তুহিন। তাকে সহযোগিতা করেন বনরূপা রায় ও শারমিন সুলতানা নীলা।
আইনজীবী তুহিন সাংবাদিকদের বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ন্যায় বিচারের জন্য প্রতীক্ষার পর আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আজকের এ আদেশ পেলো। সরকার ও সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রত্যাশা, তারা সন্তান হারা ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তিতে সক্রিয় ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”
দুর্ঘটনার পটভূমি ও তদন্ত প্রক্রিয়া
২০২৫ সালের ২১ জুলাই বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর চেংডু এফটি-৭ বিজিআই মডেলের একটি প্রশিক্ষণ বিমান উড্ডয়নের পরপরই ঢাকার উত্তরা এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিধ্বস্ত হয়। এ দুর্ঘটনায় ৩৬ জন নিহত এবং ১৭০ জনের বেশি আহত হন। নিহতদের মধ্যে ৩২ জন শিক্ষার্থী, তিন শিক্ষক ও একজন পাইলট রয়েছেন।
দুর্ঘটনা তদন্তের জন্য বোর্ড অব ইনকোয়ারি ও পৃথক কমিশন গঠন করে সরকার। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করা হলেও তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে প্রদান করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের ৯ জন অভিভাবক ও ব্লাস্ট যৌথভাবে জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন।
রিটে উত্থাপিত দাবিসমূহ
রিট আবেদনে নিম্নলিখিত দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়েছে:
- তদন্ত প্রতিবেদন অবিলম্বে প্রকাশ করা
- দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
- বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে নিশ্চিতকরণ
- ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান
- বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ
আদালত এখন সরকারের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা ও পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন। হাইকোর্টের রুল জারি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



