হাইকোর্টে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের চার মামলায় জামিন মঞ্জুর
রবিবার হাইকোর্ট সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা চারটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছেন। বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও মো. সাগির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ খায়রুল হকের আইনজীবীদের দায়ের করা পৃথক জামিন আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ জারি করেন।
জেল থেকে মুক্তি এখনও সম্ভব নয়
তবে সাবেক প্রধান বিচারপতির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অন্য একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে তিনি এখনও কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে জামিন মঞ্জুর হলেও তার কারামুক্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আদালতে উপস্থিতি ও প্রতিনিধিত্ব
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, সাঈদ আহমেদ রাজা এবং আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিরুল ইসলাম সুমন।
গ্রেপ্তার ও মামলার পটভূমি
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবন থেকে পুলিশ খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে জুলাই আন্দোলনের সময় জাত্রাবাড়িতে যুবদল কর্মী আব্দুল কাইয়ুম আহাদের হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিভিন্ন মামলার বিবরণ
প্রথম মামলা: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহেদুল ইসলাম শাহিন গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যাতে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত একটি রায় জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।
দ্বিতীয় মামলা: গত বছরের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারি ভূঁইয়া আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
তৃতীয় মামলা: একই দিনে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় নুরুল ইসলাম মোল্লা একই ধরনের অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
চতুর্থ মামলা: এর আগে গত বছরের ৪ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন (ডিআইসি) খায়রুল হকের বিরুদ্ধে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে।
জামিন প্রক্রিয়া ও হাইকোর্টের ভূমিকা
নিম্ন আদালতে তার জামিন আবেদন নাকচ হওয়ার পর খায়রুল হক হাইকোর্টে জামিনের জন্য আবেদন করেন। হাইকোর্ট পরে পাঁচটি মামলায় জামিন সংক্রান্ত একটি রুল জারি করে, যা আজকের শুনানির ভিত্তি তৈরি করে। এই সমগ্র প্রক্রিয়াটি আইনি পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে সাবেক প্রধান বিচারপতির মতো উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরাও আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াচ্ছেন।



