ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ১১ কোটি টাকা ছিনতাই মামলার আসামি ভারতে পালানোর পথে গ্রেফতার
ডাচ-বাংলা ব্যাংক ছিনতাই মামলার আসামি ভারতে পালানোর পথে গ্রেফতার

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ১১ কোটি টাকা ছিনতাই মামলার আসামি ভারতে পালানোর পথে গ্রেফতার

ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের সোয়া ১১ কোটি টাকা ছিনতাই মামলার চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি জনিকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকা বড়ছড়া থেকে থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

গ্রেফতারের বিস্তারিত বিবরণ

গ্রেফতারকৃত জনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত গ্রাম বড়ছড়ার গণি মিয়ার ছেলে। সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রাজধানীর তুরাগ থানা পুলিশকে গ্রেফতারের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। বুধবার গ্রেফতার জনিকে তুরাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাহিরপুর থানার ট্যাকেরঘাট অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সঙ্গীয় ফোর্সদের নিয়ে মঙ্গলবার রাতে জনিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই মামলায় চার্জশিটভুক্ত পলাতক দুই আসামির মধ্যে একজন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছিনতাইয়ের পটভূমি

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৯ মার্চ রাজধানীর উত্তরার তুরাগ এলাকায় ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের সোয়া ১১ কোটি টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। আলোচিত এ ছিনতাইয়ের ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনায় রাজধানীর তুরাগ থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্তের দায়িত্ব পায় মিরপুর গোয়েন্দা পুলিশ বিভাগ।

মানি প্ল্যান্ট লিংক লিমিটেড নামের একটি সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে করে ওই টাকা বহন করা হচ্ছিল। বুথে টাকা লোড করতে ঢাকা থেকে সাভার ইপিজেডে যাচ্ছিল গাড়িটি। পথে একদল ছিনতাইকারী একটি মাইক্রোবাস আড়াআড়ি দাঁড় করিয়ে টাকা বহনকারী গাড়িটি থামায়। এরপর মাইক্রোবাস থেকে ১২ থেকে ১৫ জন সশস্ত্র ছিনতাইকারী ফিল্মিস্টাইলে নেমে গাড়ির দরজা অস্ত্রের মুখে খুলে ফেলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছিনতাইকারীদের একজন নিজেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দেন। মানি প্ল্যান্টের কর্মীদের চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুসি মেরে টাকাভর্তি চারটি ট্রাংক ছিনিয়ে নিয়ে বীরদর্পে সটকে পড়েন।

মামলার অগ্রগতি

ওই মামলায় ইতোপূর্বে ১৩ পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের ১২ জনই আদালতে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে ৮ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং ছিনতাইয়ের ২০ লাখ টাকায় কেনা একটি বিলাসবহুল চার চাকার গাড়ি।

২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ডাচ-বাংলার সোয়া ১১ কোটি টাকা ছিনতাই ঘটনায় জড়িত ১৫ ছিনতাইকারির বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন মিরপুর গোয়েন্দা পুলিশ বিভাগের তদন্তকারী অফিসার।

এ ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।