আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষী নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি
ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষী নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষী নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষী ঠিক করার পেছনে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ দাবি করেছেন, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে রাজসাক্ষী বানানো হয়েছে টাকার বিনিময়ে। এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।

অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ

প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ ফেসবুকে একটি পোস্টে অভিযোগ তুলে বলেন, "দাগি খুনি পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার না করে পালানোর সুযোগ করে দিয়েছে নিরাপদে। চিফ প্রসিকিউটরের চেয়ারকে টাকা কামানোর হাতিয়ার হিসেবে তৈরি করে রেখেছে এই তাজুল সিন্ডিকেট।" তিনি আরও দাবি করেন, আশুলিয়ার লাশ পোড়ানো মামলায় এসআই আবজালুল হকের স্ত্রীকে ভারী ব্যাগ নিয়ে তামীমের কক্ষে ঢুকতে দেখেছিলেন, যা টাকার লেনদেনের ইঙ্গিত দেয়।

সুলতান মাহমুদের মতে, আল-মামুনকে "ন্যায্য কারণ ছাড়াই" রাজসাক্ষী করা হয়েছে, যা মামলার প্রমাণকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান এই দাবি খণ্ডন করে লিখেছেন, আল-মামুনের সাক্ষ্য না থাকলে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে প্রমাণ দুর্বল হতো।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজসাক্ষী প্রক্রিয়া ও এর গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ১৫ ধারায় অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষীর বিধান রয়েছে। একজন আসামি নিজের দোষ স্বীকার করে পূর্ণ সত্য প্রকাশ করলে তাকে ক্ষমা করা যায়। এ পর্যন্ত দুজন রাজসাক্ষী হয়েছেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন: জুলাই অভ্যুত্থানের মামলায় রাজসাক্ষী হয়ে শেখ হাসিনার নির্দেশে গণহত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
  • শেখ আবজালুল হক: আশুলিয়ার লাশ পোড়ানো মামলায় রাজসাক্ষী হয়ে ওসির নির্দেশে গুলি চালানোর কথা বলেছেন। তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

ডেভিড বার্গম্যান উল্লেখ করেন, রাজসাক্ষীর সাক্ষ্য জটিল মামলায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তিনি বলেন, "অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তদন্ত হওয়া উচিত।"

প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের দাবি

সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "এটি মিথ্যাচার এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার দুরভিসন্ধি।" প্রসিকিউটর তামীমও অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। অন্যদিকে, নতুন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, তিনি বিষয়টি তদন্ত করবেন এবং দুর্নীতির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ও আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া তদন্তের পক্ষে মত দেন। বড়ুয়া বলেন, "বিষয়টি অমীমাংসিত রাখলে বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং গুজব বাড়তে পারে।"

মামলার পটভূমি

জুলাই অভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আল-মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তাঁর শাস্তি লঘু করা হয়। ২০২৪ সালে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর নিযুক্ত করা হয়, যিনি গত সোমবার অপসারিত হন।

এই ঘটনা ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সমাধানের উপর জোর দিচ্ছেন।