রমজানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
রমজানে ষষ্ঠ-দশম শ্রেণির শিক্ষা স্থগিতের নির্দেশ

রমজানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ আগামী রমজান মাসে সারাদেশে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রমজান মাসে এ নির্দেশ কার্যকর হবে বলে আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের রায় ও শুনানি

রবিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ একটি রিট পিটিশনের প্রাথমিক শুনানির পর এ আদেশ জারি করেন। আদালত শিক্ষা সচিবকে নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রমজানে এই শ্রেণিগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ না রাখার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলেছেন।

পৃথক আদেশে মাদ্রাসা ও জুনিয়র স্কুল বন্ধের বৈধতা প্রশ্ন

একটি পৃথক আদেশে আদালত রমজান মাসে মাদ্রাসা ও জুনিয়র মাধ্যমিক স্কুল বন্ধের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আদালত এ বিষয়ে একটি রুল জারি করেছেন, যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাদের সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবীদের উপস্থিতি

আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ইলিয়াস আলী মন্ডল আদালতে উপস্থিত ছিলেন, যাকে আইনজীবী তানজিনা ববি লিজা ও মো. বায়েজিদ সহযোগিতা করেছেন। এর আগে, ৫ জানুয়ারি আবেদনকারী ইলিয়াস আলী মন্ডল সরকারের কাছে এ বিষয়ে একটি আইনগত নোটিশ প্রদান করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি ২০ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইনগত নোটিশের যুক্তি

আইনগত নোটিশে উল্লেখ করা হয় যে বাংলাদেশের বেশিরভাগ জনগণ মুসলিম এবং স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধ থাকে। নোটিশে দাবি করা হয় যে এই দীর্ঘদিনের চর্চা প্রতিষ্ঠিত আইন, প্রথা ও নীতির অংশ। সংবিধানের ৩১ ও ১৫২(১) ধারা উদ্ধৃত করে নোটিশে বলা হয় যে রমজানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক হবে।

শারীরিক চাপ ও যানজটের আশঙ্কা

নোটিশে আরও যুক্তি দেওয়া হয় যে রোজা রেখে সারাদিন স্কুলে যাওয়া তরুণ শিক্ষার্থীরা শারীরিক চাপ অনুভব করতে পারেন, যা তাদের ধর্মীয় অনুশীলন থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। এছাড়াও রমজানে স্কুল খোলা রাখলে শহরাঞ্চলে যানজট বেড়ে যেতে পারে, যা জনগণের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করবে বলে দাবি করা হয়। সরকারের কাছ থেকে নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় পরবর্তীতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়।

এ আদেশের মাধ্যমে রমজান মাসে শিক্ষা কার্যক্রমের উপর গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও ধর্মীয় প্রথার মধ্যে সমন্বয় সাধনে ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।