জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা স্বাধীনতার এত বছর পরও তৈরি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সংসদে প্রশ্নোত্তরে মন্ত্রীর বক্তব্য
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলালের প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার ও সব শহীদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন করা হবে। এর মাধ্যমে তাঁদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় এ অধিবেশন শুরু হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ও তালিকা বাতিল
সংসদ সদস্য রুহুল আমীনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬ হাজার ৪৮০ জন। অন্যদিকে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আবুল কালামের (কুমিল্লা-৯) প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশে ২০১০ থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৭৬ জনের গেজেট বা লাল মুক্তিবার্তা বা ভারতীয় তালিকা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে ৪৮১ জনের তালিকা।
কৃষি ও সার ডিলার প্রসঙ্গ
সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষকদের মধ্যে সঠিক সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে সার সরবরাহ অব্যাহত রাখতে দেশে ১১ হাজার ৫ জন সার ডিলার নিয়োজিত রয়েছেন। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিদ্যমান সার ডিলারের মধ্যে বিসিআইসির নিয়োগ করা ৫ হাজার ৬৬৯ জন, বিএডিসির ৫ হাজার ৩৩৬ জন। সরকার তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন অনিয়মসহ নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত ২ হাজার ৩১১ জন ডিলারের তালিকা তৈরি করেছে। অভিযুক্ত ডিলারদের তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। অনিয়মের মাত্রা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ডিলারশিপ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে নতুন ডিলার নিয়োগ করা হবে।
ইটভাটায় ফসলি জমির ক্ষতি
গাজীপুর-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কাটার ফলে ১৫ হাজার ৪৫০ একর জমি আবাদ অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
পর্যটন মহাপরিকল্পনা
জামালপুর-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদ বাবুর প্রশ্নের জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন পর্যটক আকর্ষণ এবং ২ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।



